বাড়ির ভেতর পড়েছিল গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ
Advertisement
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজারের উখিয়ায় বাড়ির ভেতর থেকে জদিদা কাওসার নামে এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার ভোরে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের মশারখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জদিদা কাওসার (২৫) ওই এলাকার শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িতে ঢুকে ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গের সামনে কথা হয় জদিদা কাওসারের ভাই ওবায়দুল্লাহ ও নজিবুল্লাহ এবং চাচা শ্বশুর আবুল কাশেমের সঙ্গে। তারা জানান, জদিদার স্বামী দিনমজুর। স্ত্রীকে নিয়ে বাবার বাড়ির পাশে আলাদা বাড়িতে বসবাস করেন। রমজানের শুরুতে কাঠ কাটার জন্য বান্দরবানে চলে যান তিনি।
তারা জানান, স্বামী বান্দরবানে চলে যাওয়ায় জদিদা খাওয়া-দাওয়া করেন পাশের শ্বশুরবাড়িতে। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে খাওয়াদাওয়া করে বাড়িতে চলে যান জদিদা। এরপর সেহেরির টাইম পার হয়ে গেলেও জদিদা খেতে না যাওয়ায় তাকে ডাকতে যান শ্বশুর। তিনি (শ্বশুর) বাড়িতে গিয়ে দেখতে রুমের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে জদিদার মরদেহ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জদিদার দুই সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে বড় ছেলের বয়স ৪ বছর। ছোট মেয়ের বয়স ২ বছর। মঙ্গলবার রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষে ফেরার পথে বড় ছেলেকে দাদার বাড়িতে রেখে আসেন জদিদা। কী কারণে জদিদাকে হত্যা করা হয়েছে তার কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না স্বজনরা।
জদিদার ভাই নজিবুল্লাহর দাবি, তার বোন অত্যন্ত দরিদ্র। তাদের বাড়িতে চুরি বা ডাকাতি করার মতো কিছু ছিল না।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সুরতহাল করার সময় তারা মাথার পেছনে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে বেশ কয়েকটি আঘাত দেখতে পান, যা ধারাল অস্ত্র দিয়ে করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের কোনো আলামত দেখতে পায়নি প্রাথমিকভাবে, কারণ পরনের কাপড় স্বাভাবিক ছিল। তারপরও ময়নাতদন্তে বিস্তারিত বেরিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
নাসির উদ্দিন জানান, পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জদিদার কোনো শত্রুতা ছিল না। কী কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্তে উঠে আসবে। তারা অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছেন।
