বিউটি পার্লারের আড়ালে দেহব্যবসা, অস্বীকৃতি জানালে চুল কেটে মুখে কালি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানিকগঞ্জ শহরে একটি বিউটি পার্লারের আড়ালে সংঘবদ্ধভাবে দেহব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ওই চক্রের বিরুদ্ধে নারীদের জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নামাতে নির্যাতনের ভয়ংকর অভিযোগও সামনে এসেছে।
প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক নারীকে মারধর, শিকলে বেঁধে আটকে রাখা এবং তার চুল কেটে মুখে কালি মেখে অপমান করার অভিযোগে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শহরের পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকায় এলজিইডি অফিসের পশ্চিম পাশে ‘রাইসা বিউটি ঘর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক রত্না ইয়াছমিনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলে দেহব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
মামলার বাদী হাসিনা আক্তার (৩৬) জানান, তিনি ওই বিউটি পার্লারে চাকরি করতেন। চাকরির সুযোগে পার্লারের মালিক রত্না ইয়াছমিন ও তার সহযোগীরা তাকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার চেষ্টা করেন।
অভিযুক্তরা হলেন- ওই বিউটি পার্লারের মালিক মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম বান্দুটিয়া গ্রামের রত্না ইয়াছমিন, তার ছেলে মো. তুষার রহমান (২৬), দেড় গ্রাম এলাকার তাজনীন আক্তার চাঁদনী (২৩), পশ্চিম সেওতা এলাকার রিফাত (২৫) ও রজ্জব (২৫), বাইচাইল গ্রামের জহিরুল ইসলাম টিপুসহ (৪৫) অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন।
বাদীর অভিযোগ, গত ১১ মার্চ তার ছোট বোন ফাতেমা আক্তার (১৩) বেড়াতে এলে বিষয়টি জানতে পেরে চক্রটি তাকে দিয়েও দেহব্যবসা করানোর প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় গত ১৪ মার্চ রাত আনুমানিক ১টার দিকে কয়েকজন আসামি তার উত্তর দেওতা এলাকার বাসায় গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে।
ভুক্তভোগী আরও জানান, অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে মারধর করে জোর করে পশ্চিম বান্দুটিয়ার ওই পার্লারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় এবং হাত বেঁধে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে পার্লারে ব্যবহৃত ধারালো কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং মুখে কালি মেখে অপমান করা হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, বাহ্যিকভাবে বিউটি পার্লার হলেও ভেতরে অন্য কর্মকাণ্ড চলত বলে এলাকায় গুঞ্জন ছিল।
এদিকে ভুক্তভোগীর স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে পুলিশ রত্না ইয়াছমিন, তুষার রহমান ও তাজনীন আক্তার চাঁদনীকে আটক করে। অন্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
পরে আহত হাসিনা আক্তারকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী ওই নারী।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার অভিযান চলছে এবং অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
