পরকীয়ার জেরে ভাবি-ভাতিজাকে হত্যা: দেবরের ১০ বছরের কারাদণ্ড
Advertisement
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পরকীয়ার জেরে ভাবি ও শিশু ভাতিজাকে হত্যার দায়ে দেবর সোলাইমান হোসেনকে (৩৪) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসকেএম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে সাটুরিয়া উপজেলার উত্তর কাউন্নারা গ্রামে এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আসামি সোলাইমান হোসেনের সঙ্গে তার ভাবি পারভীনের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে পারভীন তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে দুজনের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে পারভীনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন সোলাইমান। ওই সময় হত্যাকাণ্ডটি দেখে ফেলায় পারভীনের শিশুসন্তান ও সোলাইমানের ভাতিজা আব্দুন নূরকেও নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ সোলাইমান হোসেনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আফম নুরতাজ আলম বাহার বলেন, দীর্ঘ ছয় বছর পর জোড়া খুনের মতো একটি স্পর্শকাতর মামলার রায় হলেও আসামির এই সাজা একেবারেই অপর্যাপ্ত। এ রায়ে বাদীপক্ষ কোনোভাবেই সন্তুষ্ট নয়। উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তে গুরুতর গলদ ও অসঙ্গতি ছিল। যে ছুরি দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়, তা ফরেনসিক পরীক্ষার পর আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। এখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। খালাসের দাবিতে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করব।
