নারায়ণগঞ্জ বার ভবনে আইনজীবীদের দুপক্ষের হট্টগোল-ধাক্কাধাক্কি
Advertisement
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বার ভবনে আইনজীবীদের দুইপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা, হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকালে আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে সম্প্রতি অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এ বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আলোচনা চলাকালে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়।
একপর্যায়ে অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ও আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধানের পক্ষের সঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের অনুসারীদের তুমুল বাগবিতণ্ডা বেধে যায়।
এ সময় কয়েকজন আইনজীবী ক্ষিপ্ত হয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের দিকে তেড়ে গেলে তাকে রক্ষা করতে তার সঙ্গে থাকা পুলিশ দেহরক্ষী (কনস্টেবল) জাহিদ সামনে এসে দাঁড়ান। তখন উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধান বলেন, আমার দপ্তরে আইনজীবীরা দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় সাখাওয়াতের লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আমাদের পিপির গায়ে হাত তোলা হয়। পরে পুলিশ এসে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির বলেন, আমরা সভাপতির কক্ষে বসে খাবার খাচ্ছিলাম। পাশেই সেক্রেটারির কিছু লোকজন অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে এক আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে অপ্রীতিকর মন্তব্য করা হলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আমাদের ধারণা, ঘটনাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
পিপি নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু আদালতে এক মাস আগে সুমনকে পিপি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তবে একটি পক্ষ তা মেনে নিতে না পেরে তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটিয়েছে। এটি একটি প্রশাসনিক ও সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়; কারো আপত্তি থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারত; কিন্তু সিনিয়রদের সঙ্গে জুনিয়র আইনজীবীদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ কাম্য নয়। দলের নাম ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তির বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের কারণে সামগ্রিকভাবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
