পুলিশ যেখানে ব্যর্থ, জনতার ক্ষোভ সেখানে বিস্ফোরণ
Advertisement
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
কটিয়াদী মডেল থানা। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পাঁচ মাদককারবারির বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় বাদল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
সোমবার সন্ধ্যার পর উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ লোহাজুরী, উত্তর লোহাজুরী ও চরকাউনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদককারবারিদের দৌরাত্ম্যে যুবসমাজ বিপথগামী হয়ে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে মাদক ব্যবসা বন্ধ তো হয়নি, বরং দিন দিন আরও বিস্তার লাভ করেছে।
এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমতে থাকে। একপর্যায়ে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে উত্তেজিত জনতা পাঁচ মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
ভাঙচুর করা বাড়িগুলো হচ্ছে- দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামের সাইফুল ইসলাম (বিলপাড়), মুহিউদ্দীন কালা ও তার স্ত্রী রোকিয়া বেগম (কাজীর মোড়), আমজাদ হোসেন (বাকশা বাড়ি), উত্তর লোহাজুরী গ্রামের ডিশান মিয়া এবং চরকাউনিয়া গ্রামের বাদশা আফ্রাদের বাড়ি।
সোমবার বিকালে উপজেলার দক্ষিণ সীমান্তবর্তী এলাকার একটি সেতুর ওপর থেকে বাদল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন স্থানীয় জনতা। পরে তাকে কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক বাদল মিয়া দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামের আইন উদ্দিন বেপারীর ছেলে।
উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উত্তর লোহাজুরী গ্রামের বাসিন্দা জয় আহমেদ বকুল জানান, লোহাজুরী ইউনিয়নে মাদককারবারিদের বিষয়ে জনপ্রতিনিধি ও পুলিশকে বারবার জানানো হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিকার পাইনি। অবশেষে আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের এ ব্যবসা বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছি; কিন্তু তারা কোনো কর্ণপাত না করে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এরই প্রতিক্রিয়ায় যুবসমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং একজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, লোহাজুরী ইউনিয়নের লোকজন সোমবার বিকালে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ বাদল মিয়া নামে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে মাদককারবারিদের পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ জানান, মাদককারবারিদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও আটকের বিষয়ে তিনি অবগত নন।
