মিথ্যা মামলায় আসামি স্কুলছাত্রী
লুকিয়ে পরীক্ষা দিয়েও পেয়েছে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, পটুয়াখালী
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গলাচিপায় এক মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন হঠাৎ করেই থমকে গেছে একটি মিথ্যা মামলায়। তবুও লুকিয়ে লুকিয়ে পরীক্ষা দিয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে সে। তার স্বপ্ন ছিল বড় কিছু করার কিন্তু সে পথ এখন ভরে গেছে ভয়, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায়।
আদালতের বারান্দা আর লুকিয়ে থাকা জীবন, এ বাস্তবতাতেই দিন কাটছে নবম শ্রেণির ছাত্রী হাসিবুন নাহার সিনহার।
শনিবার রাতে গলাচিপা মহিলা কলেজ সড়কের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানায়। একই সঙ্গে পড়াশোনা নির্বিঘ্ন রাখতে রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীলদের কাছে ন্যায়বিচার কামনা করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা গলাচিপা মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লুৎফুর নাহার, বড় ভাই শিহাব ও ছোট ভাই সাহাদাৎ।
লিখিত বক্তব্যে হাসিবুন জানায়, ছোটবেলা থেকেই সে পড়াশোনায় মেধার স্বাক্ষর রেখে আসছে। কিন্তু একটি অপ্রত্যাশিত মামলার কারণে তার জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।
সে জানায়, ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সময়ই তার জীবনে এ দুর্ভাগ্য নেমে আসে। ২৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে যখন সে হলে বসে ইংরেজি পরীক্ষা দিচ্ছিল, ঠিক সে সময়ের একটি ঘটনায় তাকে একটি মামলার ১২ নম্বর আসামি করা হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় তার দুঃসহ দিনযাপন। গ্রেফতারের ভয়ে নিজ বাড়িতে থাকতে পারেনি সে। আতঙ্কের মধ্যেই লুকিয়ে লুকিয়ে দিতে হয়েছে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো। এতে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ভেঙে পড়ে, তবুও থেমে থাকেনি তার চেষ্টা। সব প্রতিক‚লতা পেরিয়ে গলাচিপা উপজেলা থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে সে নিজের মেধা ও অদম্য মনোবলের প্রমাণ দিয়েছে।
হাসিবুনের ভাষায়, ‘আমাকে যদি এ মামলায় জড়ানো না হতো, তাহলে আমি আরও ভালো ফল করতে পারতাম, মেধা তালিকায় স্থান পেতাম।’
সংবাদ সম্মেলনে তার বাবা হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, পৈতৃক জমি দখলের উদ্দেশে প্রতিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তিনি জানান, ১৯৮১ সালে তার বাবা আপ্তার আলী হাওলাদার গলাচিপা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের রতনদী মৌজায় প্রায় ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ২০২৩ সালের জরিপে ওই জমির ৪৫ শতাংশ তার ও তার দুই ভাইয়ের নামে রেকর্ড হয় এবং বর্তমানে সেখানে তাদের বসতবাড়ি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর গলাচিপা থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয়। এর জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষ কাইয়ুম মৃধা ২৯ ডিসেম্বর রাতে তাদের জমি দখলের চেষ্টা চালায় এবং একই দিন পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি লুটের মামলা করে, যেখানে তার নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকেও আসামি করা হয়।
এ বিষয়ে কাইয়ুম মৃধার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গলাচিপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝিলন সিকদার বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড করে তদন্ত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় যারা জড়িত নন, তারা কোনোভাবেই হয়রানির শিকার হবেন না।
