পানির নিচে পচন, উপরে নষ্ট হচ্ছে ধান
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে খাল ভরাট হয়ে যাওয়া ও অপরিকল্পিত পুকুর খননে বিভিন্ন বিলে ও জলাশয়ে জমে আছে কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিপাতের পানি। এতে বিলের ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পানির নিচে থাকা ধানে পচন ধরে গেছে। কয়েক দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত ও রোদের অভাবে কেটে ফেলা ধানও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বুধবার (৬ মে) বিকালের ভারি বর্ষণে আবারও বেড়েছে কৃষকের দুর্ভোগ।
রামগোপালপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর, নওয়াগাঁও, পৌর শহরের সতিষা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানির নিচে আধাপাকা ধানে পচন ধরেছে। পাকাধান কেটেও বিপাকে কৃষক। এসব ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কেইলা বিলে পানি সরছে না। ফলে হাজারও কৃষকের ধান পচে নষ্ট হচ্ছে।
ডৌহাখলা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা রতন চন্দ্র সরকার জানান, অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে যাওয়া ও অপরিকল্পিত পুকুর খননের কারণে সব বিলে পানি আটকে আছে। পানি নিষ্কাষনের কালভার্ট ও ব্রিজও ভরাট হয়ে গেছে।
ভাংনামারী ইউনিয়নের নাপ্তেরআলগীর কৃষক মজিবুর রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্র এখন শুকনা। পায়ে হেঁটে যাওয়া যায়। ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে সংযোগ খালগুলো ভরাট হওয়ায় অধিকাংশ ফসল নষ্ট হচ্ছে। উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের পাগলা বিলে কৃষকের ধান পানির নিচে পচে যাচ্ছে।
কৃষক আব্দুল গনি, মজিবুর রহমান, সুমন মিয়া জানান, তাদের জমির উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সোনালি ধান এখন পানির নিচে দুলছে।
এদিকে বুধবার উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন জলি যুগান্তরকে জানান, ঝড়ো আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টি ৫ হাজার ১শ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বোরো আক্রান্ত ফসলি জমি ৫৫০ হেক্টর, সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে ১৮০ হেক্টরের, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ধান ৩৭০ হেক্টর। এতে ৩ হাজার ৮৫০ জন কৃষকের ৬ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ৫০ হেক্টর জমির শাকসবজি অতিবৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হেক্টর জমির শাকসবিজ পুরোপুরিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০ হেক্টর জমির ফসল।
এতে ১ হাজার ২৫০ জন কৃষাণ-কৃষাণীর ১ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মৌসুমি শাকসবজি বিনষ্ট হয়েছে। এ উপজেলায় ধান নষ্ট হয়ে গেছে ১ হাজার ৩০৯ মেট্রিক টন ও শাকসবজি ৬৪৬ মেট্রিকটন।
