এবার দিনাজপুরে ধর্ষণে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ১১ বছরের শিশু
Advertisement
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১০:১২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার পর এবার দিনাজপুরে ধর্ষণে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে ১১ বছরের শিশু। সে নিজে শিশু হয়ে তার পেটে বহন করছে আরেকটি শিশু। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর মৌজার মালিপাড়ায় ৫৮ বছরের দয়াল ওরফে ভণ্ডের লালসার শিকার হয়েছে ১১ বছরের এক শিশুটি।
চিকিৎসকরা বলছেন, অন্তঃসত্ত্বা শিশুটির জীবন অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি গোপনে দুই শতক জমি আর দেড় লাখ টাকার দেনমোহরে অবৈধ বিয়ের মাধ্যমে রফা-দফা করেছেন আত্মীয়স্বজন ও মাতবররা। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার নিশ্চয়তায় তারা আত্মসাৎ করেছেন দেড় লাখ টাকা। প্রায় অর্ধমাস আগে ওই অবৈধ বিয়ের কাজটি সম্পন্ন করেছেন শাকিব নামে একজন কাজি।
ভিকটিমের সঙ্গে কথা হলে সে জানায়, দয়াল ওরফে ভণ্ড প্রায় ৬ মাস আগে ভয়-ভীতি দেখিয়ে সন্ধ্যায় তাকে ভুট্টা খেতে নিয়ে যায় ও তার সঙ্গে খারাপ কাজ করে। এভাবে পরবর্তীতে আরও তিনবার চেতনানাশক কিছু খাইয়ে ওই ভুট্টা খেতেই তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে।
সে আরও জানায়, তার পেটের এই অনাগত সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর দয়ালকেই ফিরিয়ে দেবে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে আক্ষেপ করে বলে- তার ওপর যে অন্যায় হয়েছে সেটার জন্য বিচার চেয়েও পায়নি। এজন্য সে আল্লাহর কাছে সব ছেড়ে দিয়েছে। যত সময় যাচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা শিশুটির শারীরিক অবস্থা তত খারাপ হচ্ছে।
এই ভিকটিম শিশুর মা একজন চাতাল শ্রমিক ও বাবা ভিক্ষুক।
এক মাস আগে শিশুটিকে অস্বাভাবিক দেখেন তার মামি। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনা খুলে বলে সে। বিষয়টি জানাজানি হলে সপ্তাহখানেক আগে স্থানীয়দের মাধ্যমে মীমাংসার নামে ধামাচাপা দেওয়া হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ওই শিশুর দেওয়া হয় কথিত বিয়ে। একটি খাতাতে ওই শিশুটির সই নিয়ে বলা হয় বিয়ে হয়ে গেছে। বিনিময়ে দেড় লাখ টাকা মোহর এবং দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় অভিযুক্ত ধর্ষক নূর।
মেয়েটির মামি বলেন, মেয়েটিকে দেখে আমার কিছুটা অস্বাভাবিক লাগে। এরপর আমি একদিন বুঝতে পারি সে অন্তঃসত্ত্বা। পরে জানাজানি হলে এলাকার সবাই মিলে এ বিষয়টি সমাধান করে। সেই সময় আমি সেখানে ছিলাম না। আমাদের কাউকে জানানো হয়নি।
মেয়েটির মা বলেন, এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গ্রামের সবাই মিলে দুইজনের বিয়ে দেয়।
মেয়েটির বাবা বলেন, হঠাৎ করেই আমি জানতে পারি, আমার মেয়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমার মেয়ের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ।
মোবাইল ফোনে কথা হয় এই অবৈধ বিয়ের কাজি শাকিবের সঙ্গে। তিনি জানান, ওই এলাকায় আমি কাজ করি। তবে ওই বিয়েটা পড়িয়েছি কিনা একটু দেখতে হবে- বলেই কলটি কেটে দেন।
এদিকে সরেজমিন ঘটনাটি জানতে অভিযুক্ত দয়ালের মুখোমুখি হতে গেলে তিনি সংবাদকর্মীর উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত বাসা থেকে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে বিশিষ্টজনদের মতামত নিলে তারা জানান, এই অন্তঃসত্ত্বা শিশুটিকে এখনই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হেফাজতে নেওয়া উচিত। কারণ তার সুস্থতা নির্ভর করছে উন্নত চিকিৎসাসেবার ওপর। কিন্তু উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সামর্থ্য এই গরিব অসহায় পরিবারটির নেই।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেন ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নব কুমার বিশ্বাস। পরে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ১২ বছরের শিশুকে এক ব্যক্তি ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে লোকলজ্জার ভয়ে এবং মেয়েকে দেড় লাখ টাকা ও ২ শতক জমি লিখে দেওয়ার কথা বলে কাজি ডেকে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়; কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কথা না রাখায় বিষয়টি জানাজানি হয়। পরিবারের সদস্যরা আমাদের সব ঘটনা বলেছেন। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে আসামিকে গ্রেফতার করা হবে।
আপস-মীমাংসার বিষয়ে তিনি বলেন, মামলা হবে, মামলার পর তদন্তসাপেক্ষে যার যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেব।
এদিকে নেত্রকোনার মদনে শিক্ষকের ধর্ষণে মাদ্রাসাছাত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত আমানুল্লাহ আমান সাগরকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আইনজীবী নূরুল কবীর রুবেল জানান, ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর মাদ্রাসা ছুটি শেষে শিশুটিকে ঝাড়ু দিয়ে মসজিদ পরিষ্কার করতে বলেন শিক্ষক সাগর। পরে মসজিদের বারান্দার একটি কক্ষ পরিষ্কার করার কথা বলে শিশুটিকে কক্ষে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি। ভয় ও লজ্জার কারণে শিশুটি বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি। সাত মাস পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয় তার মায়ের। পরে ১৮ এপ্রিল মদনের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে জানা যায়, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
