চট্টগ্রামে খাদ্য কর্মকর্তার ৮ বছরের কারাদণ্ড
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রায় ১৯০ টনের বেশি সরকারি চাল আত্মসাতের মামলায় খাদ্যগুদামের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) পলাশ পাল চৌধুরীকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি মোকাররম হোসাইন।
একই সঙ্গে আদালত তাকে আত্মসাৎ করা চালের বাজারমূল্যের সমপরিমাণ ৮৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ টাকা জরিমানাও করেছেন।
দুদকের পিপি মোকাররম হোসাইন জানান, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত খাদ্যগুদামের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ পাল চৌধুরীকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। মামলার অভিযোগ গঠনের পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ জুলাই থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ খাদ্যগুদামে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ওই সময় গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পলাশ পাল চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৯০ দশমিক ৪৪২ টন সরকারি চাল অবৈধভাবে সরিয়ে আত্মসাৎ করেন।
তদন্তে দেখা যায়, আত্মসাৎ করা চালের প্রতি টনের বাজারমূল্য ছিল ৪৪ হাজার ৭৬৬ টাকা ৫৭ পয়সা। সেই হিসাবে সরকারের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ টাকা।
ঘটনার পর ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় পলাশ পাল চৌধুরী ছাড়াও খাদ্যগুদামের খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী শাহজাহান প্রকাশ মিন্টু, নিরাপত্তা প্রহরী নিজাম উদ্দিন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের স্প্রেম্যান মো. শাহজাহান, মেসার্স হিমায়ন সি-ফুডসের মালিক দিলরুবা হাসান এবং মেসার্স মোহনা এন্টারপ্রাইজের মালিক সেলিম রেজাকে আসামি করা হয়।
২০২২ সালের ২ আগস্ট কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্তে অন্য পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

