Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

তিস্তায় বালু তোলার গর্তে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

Icon

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

তিস্তায় বালু তোলার গর্তে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

ফাইল ছবি

লালমনিরহাট সদর উপজেলায় তিস্তা নদীতে গোসল করতে নেমে গভীর গর্তে তলিয়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন তিস্তা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ ইসলাম।

নিহতরা হলো—রাজপুর বাজার এলাকার শিক্ষক রেজাউল করিমের বড় ছেলে সিফাউল করিম সিফাত (১৮) ও ছোট ছেলে সোহায়েব করিম স্বচ্ছ (১৩)। তারা দুজনেই লালমনিরহাট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিল। সিফাত একাদশ শ্রেণিতে এবং স্বচ্ছ নবম শ্রেণিতে পড়ত।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতদের পারিবারিক সূত্রের বরাতে পুলিশ জানায়, শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় দুপুরে তিস্তার চরে ফুটবল খেলতে গিয়েছিল দুই ভাই। খেলা শেষে গোসল করার জন্য তারা নদীর তীরে বাঁধা একটি ডিঙি নৌকায় ওঠে। এ সময় নৌকার দোলনিতে ছোট ভাই স্বচ্ছ হঠাৎ পানিতে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে বড় ভাই সিফাতও নদীতে ঝাঁপ দেয়, কিন্তু নদীর তলদেশে থাকা গভীর গর্তে তলিয়ে গিয়ে দুজনেরই মৃত্যু হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে তিস্তার তীর রক্ষায় জিও ব্যাগে ভরার জন্য ওই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ফলে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ফুট গভীর একটি বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়, যা কোনো চিহ্ন বা সতর্কতা না থাকায় এই দুই ভাইয়ের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের জন্য ওখান থেকে বালু তোলায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছিল। আমি পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে দেখি, ছোট ভাইয়ের হাত শক্ত করে ধরে আছে বড় ভাই। ধারণা করছি, ছোট ভাই গর্তে পড়ে যাওয়ার পর তাকে তুলতে গিয়েই বড় ভাইও তলিয়ে যায়। 

রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ডাবলু অধিকারী বলেন, ছেলে দুটি অত্যন্ত ভদ্র ও মেধাবী ছিল। তাদের বাবা গতকাল পায়ের অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তার সঙ্গে মা আছেন। বাড়িতে অভিভাবক না থাকার সুযোগে তারা চরে খেলতে গিয়ে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।

ওসি সাদ ইসলাম বলেন, পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .