ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনের দিনেই সেবাগ্রহীতাকে মারধর অফিস সহায়কের
Advertisement
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধনের দিনেই সেবাগ্রহীতাকে মারধর করে হাতের শাখা ভেঙে দিয়েছেন ভূমি অফিসের সহায়ক আবুল বাশার বাদশা। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা পয়সারহাট ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের স্বরবাড়ি গ্রামের রনজিত জয়ধরের স্ত্রী শিখা জয়ধর নিজেদের জমির দুটি মিউটেশন করানের জন্য পয়সারহাট ভূমি অফিসের সহায়ক আবুল বাশার বাদশার কাছে ২০২৪ সালে ১৫ হাজার টাকা দেন। দীর্ঘ দুই বছর ধরে মিউটেশন না করে ওই গৃহবধূর সঙ্গে টালবাহানা করতে থাকেন বাদশা। তিনি একাধিকবার ভূমি অফিসে গিয়েও কোনো সুরাহা পাননি।
মঙ্গলবার ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধনের দিন ওই গৃহবধূ শিখা জয়ধর পয়সারহাট ভূমি অফিসে তার মিউটেশনের কাগজপত্র আনতে গেলে অফিস সহায়ক আবুল বাশার বাদশা কাগজপত্র না দিয়ে তাকে গালমন্দ করে অফিস থেকে বের করে দেন। পরে অফিসের বাহিরে দুইজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায় বাদশা ওই গৃহবধূকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় ওই গৃহবধূর বাম হাতের একটি শাঁখা ভেঙে যায়। পরে ওই গৃহবধূ আবুল বাশার বাদশাকেও একটি চড় মারে। পরে স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
আবুল বাশার হাওলাদার ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর পয়সারহাট ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
গৃহবধূ শিখা জয়ধর বলেন, আমি গত দুই বছর পূর্বে আমাদের জমির মিউটেশনের জন্য ভূমি অফিস সহায়ক আবুল বাশার বাদশার কাছে গেলে তিনি ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি সেই টাকা দিলে দীর্ঘ দিনেও মিউটেশনের কাগজপত্র পাইনি। মঙ্গলবার আবুল বাশারের কাছে মিউটেশনের কাগজপত্র চাইতে গেলে তিনি আমাকে অফিস থেকে বের করে দিয়ে মারধর করেন।
এ ব্যাপারে শিখা জয়ধরের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত পয়সারহাট ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক আবুল বাশার বাদশা সাংবাদিকদের বলেন, তার কাগজপত্র ৫ মাস পূর্বে তাকে দেওয়া হয়েছে। ওই গৃহবধূর সঙ্গে অফিসের বাহিরে বসে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার পয়সারহাট ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা উত্তম বেপারী বলেন, ওই গৃহবধূর সঙ্গে অফিসের বাহিরে অফিস সহায়ক আবুল বাশারের সঙ্গে একটি ঘটনা ঘটেছে বলে আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে ওই গৃহবধূ আমার কাছে কোনো অভিযোগ দেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিখন বনিক বলেন, ওই গৃহবধূ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
