ঠাকুরগাঁওয়ে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তরুণী-বৃদ্ধ-যুবকের মৃত্যু
Advertisement
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এক কলেজছাত্রী, এক বৃদ্ধ ও এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার পৃথক তিনটি স্থানে এসব ঘটনা ঘটে।
পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে থানায় তিনটি পৃথক অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার আদর্শ ছাত্রী নিবাসে। সেখানে সুমাইয়া আক্তার ঝিলিক (১৮) নামের এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সুমাইয়া ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি শহরের সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের আর্টগ্যালারি শাখায় বুকিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি কচুবাড়ী মোলানীপাড়া এলাকার মৃত শফিকুল ইসলামের মেয়ে।
পারিবারিক এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ৯টার দিকে মেস মালিকের ফোনের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে সুমাইয়া তার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় লাশ নামানো হয়।
এদিকে উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের লস্করা গ্রামে ঋণের চাপ সইতে না পেরে ফনিভূষণ রায় (৬০) নামের এক বৃদ্ধ ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে রাজমিস্ত্রির সহকারী (লেবার) ও মৌসুমি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
নিহতের ছেলে নিপেন চন্দ্র রায় জানান, ব্যবসায় ক্রমাগত লোকসানের কারণে তার বাবা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩-৪ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে তিনি দীর্ঘদিন মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন। শনিবার রাত ৯টার দিকে মধ্যে নিজ শয়নকক্ষের বাঁশের সরের সঙ্গে নাইলনের দড়ি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। সকালে মা ঘরে গিয়ে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
অন্য দিকে সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও (বিহারীপাড়া) এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আশরাফুল (১৮) নামের এক তরুণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আশরাফুল আবুল হোসেন ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে টাইলস মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা ১১টার দিকে বরুনাগাঁও এলাকার সাদেকুল ইসলামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে টাইলসের কাজ করার সময় বারান্দার প্লেনশিটের দরজায় হাত দেন আশরাফুল। বৈদ্যুতিক তারের লিকেজের কারণে ওই দরজাটি আগে থেকেই বিদ্যুতায়িত হয়েছিল। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি মো.শাহজাহান আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পৃথক স্থান থেকে লাশগুলো উদ্ধার করেছে। প্রতিটি ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে । মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
