অফিস কক্ষে অধ্যক্ষকে অচেতন করে টাকা নিয়ে পালানোর সময় প্রতারক আটক
Advertisement
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
প্রতারক ইমরান হাওলাদার
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আতাউর রহমানকে অচেতন করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সময় ইমরান হাওলাদার (৩৮) নামে এক প্রতারককে আটক করে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে কটিয়াদী সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
আটক ব্যক্তি ইমরান হাওলাদার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী এলাকার মো. সোহরাব হাওলাদারের ছেলে বলে জানান।
কটিয়াদী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মানিক চান কর বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে আমরা কয়েকজন শিক্ষক অধ্যক্ষের কক্ষে বসেছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি এসে অনুমতি নিয়ে আমাদের পাশে বসেন। আলাপকালে তিনি বলেন- ময়মনসিংহ জেলার ভালুকায় তার কুমির ও সাপের খামার আছে। এছাড়াও তিনি কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নে ৬ একর জমিতে একটি বেজির খামার প্রকল্প করেছেন। খামারটি পরিদর্শনের জন্য প্রিন্সিপাল স্যারকে দাওয়াত দিতে এসেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে থাকেন।
একপর্যায়ে অধ্যক্ষের কক্ষে থাকা শিক্ষকদের তিনি বাইরে যেতে অনুরোধ করেন। তার অনুরোধে আমরা পাশের রুমে চলে যাই। এরপর প্রায় আধঘণ্টা ধরে প্রিন্সিপাল স্যার ও লোকটির মাঝে একান্তে কথা চলে।
প্রতারক ইমরান অধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে প্রতারণা করে কিছু হাতিয়ে নিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আমরা বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে তাকে আটক করে অধ্যক্ষের কক্ষে নিয়ে যাই। এ সময় শিক্ষকরা অধ্যক্ষের কাছ থেকে কোনো টাকা নিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি সঠিক কোনো জবাব দিতে পারছিলেন না।
এমতাবস্থায় প্রতারক ইমারান হাওলাদারকে কিছু উত্তম-মাধ্যম দিলে তিনি অধ্যক্ষের কাছ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। এ ঘটনাটি কটিয়াদী মডেল থানার ওসিকে অবহিত করি। পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়। এমতাবস্থায় অসুস্থ অধ্যক্ষকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কলেজে নিয়ে আসি।
অন্যদিকে কটিয়াদী থানা পুলিশ প্রতারক ইমরান হাওলাদারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা দিয়ে থানায় নিয়ে যান।
কটিয়াদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আতাউর রহমান যুগান্তরকে জানান, ডায়াবেটিস চিরতরে ভালো হয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে কস্তূরী দিয়ে তৈরি দুটি ট্যাবলেট খেতে দেয়। ট্যাবলেট দুটি সেবনের পর আমি অন্যমনস্ক হয়ে পড়ি। এ সময় তিনি আমার সঙ্গে থাকা ৪ হাজার ২০০ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যান। কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা শেষে এখন আমি সুস্থ বোধ করছি।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান মিলন জানান, কটিয়াদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আতাউর রহমান ও থানা পুলিশ কর্তৃক নিয়ে আসা ইমরান হাওলাদারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুইজনই এখন আশঙ্কামুক্ত।
কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কটিয়াদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে চেতনানাশক কিছু সেবন করিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ইমরান হাওলাদার নামে এক প্রতারককে আটক করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
