তিন দিনেও হয়নি সমাধান, শূন্যরেখায় ১২ জনের মানবেতর জীবন
Advertisement
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে শুক্রবার সকালে বিএসএফ কর্তৃক পুশইনের শিকার ১২ জন এখনো শূন্যরেখায় মানবেতর সময় কাটাচ্ছেন।
শনিবার সকালে এ নিয়ে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক হলেও তাদের ভবিষ্যৎ গন্তব্য কোথায় এখনো নিশ্চিত হয়নি।
বৈঠকে বিএসএফ সাফ জানিয়ে দেয় শূন্যরেখার অবস্থানরত ১২ জন তাদের নাগরিক নন। ফিরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
এদিকে ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও অনিশ্চিত গন্তব্যের অপেক্ষায় ১২ জনের অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকেই।
প্রাগপুর সীমান্তের গ্রাম্য চিকিৎসক শহিদ বলেন, পুশইনের শিকার ১২ জন অসুস্থতার কথা শুনে দেখতে গিয়েছিলাম, ৪ জন শিশুর মধ্যে ১ জন মারাত্মক জ্বরে ভুগছে, অন্য তিনজন শিশুসহ ৪ জন নারী এবং ৪ জন পুরুষ সবাই ঠাণ্ডা কাশিতে ভুগছে। বাড়িতে ফিরে এসে তাদের জন্য ওষুধ নিয়ে আবার দিয়ে আসি। এছাড়া বড়রা ঠাণ্ডা কাশিতে ভুগছেন তাদের জন্যও ওষুধ দিয়ে আসলাম, তারা বলছে ১২-১৫ দিন গোসল করতে পারিনি, খোলা আকাশের নিচে জঙ্গলের মধ্যে মশার কামড় খেতে হচ্ছে। এই গরমে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
বিজিবি ৪৭ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা জানান, শূন্যরেখায় অবস্থানরত ১২ জনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ঘটনায় বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক শনিবার অনুষ্ঠিত হলেও তাতে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। দুই দেশের রাষ্ট্রপর্যায়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে নারী-পুরুষ শিশুসহ ১২ জনকে ভারতের চরমেঘনা সীমান্ত গেট এলাকার কুষ্টিয়ার বিলগাথুয়া সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। ঘটনার পর থেকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে রোববার ভোরে উপজেলার চীল্লশপাড়া সীমান্তে বিএসএফ ১ জনকে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভারতের ভূ-খণ্ডে পাঠিয়ে দেয়।
