পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ
উপাধ্যক্ষের দখলে অধ্যক্ষের গাড়ি, অস্বাভাবিক জ্বালানি ব্যয়ের অভিযোগ
Advertisement
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি ব্যয় সংকোচন ও জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশনার মধ্যে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অধ্যক্ষের জন্য বরাদ্দ সরকারি গাড়ি দীর্ঘদিন ধরে কলেজের কাঠামোবহির্ভূত উপাধ্যক্ষ ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের অনুকূলে একটি সরকারি পাজেরো জিপ বরাদ্দ রয়েছে। তবে বিভিন্ন সময় কলেজের প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কাজে গাড়িটি ব্যবহার করতে দেখা যায় উপাধ্যক্ষ ডা. এএফএম আতিকুর রহমানকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেডিকেল কলেজের অনুমোদিত জনবল কাঠামোতে উপাধ্যক্ষ নামে কোনো পদ না থাকলেও স্টাফ কাউন্সিলে অতিরিক্ত জনবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিদ্ধান্তে তাকে ওই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ২০২৪ সালে আগস্টে উপাধ্যক্ষের দায়িত্বে বসে পড়েন ডাক্তার আতিকুর রহমান। এরপর অধ্যক্ষকে পাশ কাটিয়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সরকারি গাড়িটির ব্যবহারও তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কলেজ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারি গাড়িটি শুধু প্রশাসনিক কাজেই নয়, ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও ব্যবহার করা হয়েছে। সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যক্তিগত যাতায়াতে গাড়িটি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গত ৯ জুন ভোররাতে ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় যাওয়ার সময়ও গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, গাড়িটি তার অনুকূলে বরাদ্দকৃত হলেও বিভিন্ন সময়ে উপাধ্যক্ষ এটি ব্যবহার করেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অধ্যক্ষের গাড়ির জন্য মাসিক ১৮০ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ থাকলেও গত কয়েক মাসে ব্যবহৃত জ্বালানির পরিমাণ উল্লেখ করে ৮৭৫ লিটারের বিল অধ্যক্ষের স্বাক্ষর ছাড়াই জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা দেওয়া হয়। পরে অস্বাভাবিক জ্বালানি ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলে বিলটি ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি গাড়ি ব্যবহার এবং জ্বালানি ব্যয়ের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে বিষয়গুলো কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আওতায় আসেনি।
গাড়িচালক অরুণ চন্দ্র সাহা জানান, উপাধ্যক্ষ নিয়মিত গাড়ি ব্যবহার করেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তিগতভাবে জ্বালানির খরচও বহন করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপাধ্যক্ষ ডা. এএফএম আতিকুর রহমান বলেন, তিনি নিয়ম মেনেই গাড়ি ব্যবহার করেন। সরকারি বরাদ্দের বাইরে প্রয়োজন হলে নিজ খরচে জ্বালানি সংগ্রহ করেছেন।
এদিকে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, সরকারি গাড়ি ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতির বাস্তবায়ন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
বিশেষ করে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সরকারি সম্পদের ব্যবহার নিয়ে ওঠা অভিযোগ দ্রুত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা।
