মর্গের সামনে তুলকালাম
লাশের ময়নাতদন্ত এড়াতে ১০ হাজার টাকা দাবি পুলিশের, অস্বীকার ওসির
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০০ পিএম
চন্দ্রিমা থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার দায়রাপাক এলাকার সেকেন্দার আলীর ছেলে মামুন আলী (৩০) মঙ্গলবার বিকালে প্রতিবেশীর গাছে উঠেন ডাব পাড়তে। এ সময় পা পিছলে গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। উদ্ধার করে তাকে ভর্তি করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বুধবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামুন আলীর মৃত্যু হয়।
এদিকে নিহত মামুনের স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের আবেদন করেন আরএমপির চন্দ্রিমা থানায়। আবেদন পেয়ে দুই কনস্টেবলকে সঙ্গে দিয়ে এসআই নাসির উদ্দিনকে হাসপাতাল মর্গে পাঠান চন্দ্রিমা থানার ওসি।
নিহত মামুনের বাবা সেকান্দার আলীর অভিযোগ, তিনি ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ছেলের লাশ গ্রহণের জন্য মর্গের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় চন্দ্রিমা থানার এসআই নাসির উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের বলেন- ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নিতে হলে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে মামুনের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে।
ওসির নাম করে এসআই নাসির উদ্দিন এই টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।
বুধবার সকালে এ নিয়ে হাসপাতাল মর্গের সামনে তুলকালাম ঘটে। মৃতের স্বজনরা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে মামুনের বাবা পুলিশ কর্মকর্তাকে জানিয়ে দেন ময়নাতদন্ত করা হলে তিনি ছেলের লাশ গ্রহণ করবেন না।
মামুনের স্বজনদের আরও দাবি, ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত হওয়ায় তারা কোনো অভিযোগ করতে চাননি। এ কারণে লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি চেয়ে থানায় লিখিত আবেদনও দেন বুধবার সকালে; কিন্তু এরপর চন্দ্রিমা থানার ওসির নাম উল্লেখ করে এসআই নাসির ১০ হাজার টাকা দাবি করেন।
নিহতের বাবা সেকেন্দার আলী আরও বলেন, ছেলের মৃত্যুর জন্য কারও বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। তাই ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন; কিন্তু টাকা না দিলে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে তাদের জানানো হয়। তিনি টাকা দিতে অপারগতার কথা জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনে ছেলের লাশ গ্রহণ করবেন না, তবুও ময়নাতদন্ত করাতে রাজি নন।
এরপরও পুলিশ ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেয়। একপর্যায়ে নিহতের বাবাসহ স্বজনরা কলেজ মর্গের সামনে থেকে চলে যান। শেষপর্যন্ত বিষয়টি আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। তারা মামুনের স্বজনদের ডেকে দুপুরের পর মামুনের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দ্রিমা থানার এসআই নাসির উদ্দিন বলেন, টাকা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছিল। এ কারণে লাশ হস্তান্তরে কিছুটা সময় লাগছিল। মামুনের পরিবার মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
আরএমপির চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ময়নাতদন্ত না করার শর্তে পুলিশের কেউ টাকা চেয়েছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়। ঘটনাটিতে আইনগত জটিলতা এড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ময়নাতদন্তের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছিল। এ কারণে পরিবারটি ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) গাজিউর রহমান বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
