প্রেম করে বিয়ে, হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে পালালেন স্বামী
Advertisement
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঘর থেকে পালিয়ে পরিবারের অজান্তে ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করেছিলেন খাদিজা আক্তার কাশফি (১৯); কিন্তু বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় সেই স্বামীর বাড়ির লোকজনের নির্যাতনে প্রাণ হারাতে হলো তাকে।
শুধু তাই নয়, লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখেই কৌশলে পালিয়ে গেছেন স্বামী মোহাম্মদ মারুফ (১৮)।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর বাজার এলাকার (৬ নম্বর ওয়ার্ড) সৈয়দ মোল্লার বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন।
নিহত খাদিজা আক্তার কাশফি স্থানীয় আবদুল জলিলের মেয়ে। তিনি তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন।
অভিযুক্ত স্বামী মারুফ একই এলাকার আবদুস সালামের ছেলে।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে কাশফিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বামী মারুফ। সেখানে চিকিৎসক কাশফিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করার পরপরই, লাশ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালায় মারুফ।
চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী বলেন, নিহত ওই নারীর গলায় একটি মোটা দাগ রয়েছে।
নিহত খাদিজার বাবা আব্দুল জলিল বলেন, ডিসেম্বরে আমাদের পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তারা পালিয়ে বিয়ে করে। আমার মেয়ের বয়সও কম। বিয়ের পর থেকেই ওর স্বামী খুব নির্যাতন করে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে আমার মেয়ের সঙ্গে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঝগড়া করেছে বলে খবরও পেয়েছি আমরা; কিন্তু এভাবে মেরে ফেলবে সেটা বুঝতে পারিনি।
আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে এক গৃহবধূর লাশ ফেলে স্বামী পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যায়। নিহত গৃহবধূর গলায় দাগ রয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
