Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

লুঙ্গি পরা তরুণের ‘প্যান্টের পকেট’ থেকে গাঁজা উদ্ধার

Advertisement

Icon

ফরিদপুর ব্যুরো

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

লুঙ্গি পরা তরুণের ‘প্যান্টের পকেট’ থেকে গাঁজা উদ্ধার

মধুখালী থানা

Advertisement

ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা যাওয়া নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদের (২৮) বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদক মামলার এজাহারে অসঙ্গতি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের করা মামলার লিখিত বিবরণীতে দাবি করা হয়েছে- আটক ইশতিয়াক তার ‘প্যান্টের ডান পকেট’ থেকে গাঁজা বের করে দিয়েছেন; অথচ আটকের সময় ইশতিয়াকের পরনে ছিল মূলত লুঙ্গি। আটকের সময় লুঙ্গি পরিহিত একটি ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর এ ঘটনায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়। 

স্থানীয়রা জানান, ডিবি পুলিশ যখন ইশতিয়াককে আটক করে, তখন তার পরনে ছিল লুঙ্গি ও জামা এবং কাঁধে ছিল একটি ল্যাপটপের ব্যাগ; কিন্তু ডিবির দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়- ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ইশতিয়াক স্বীকার করেন যে, তার কাছে গাঁজা আছে এবং তিনি নিজেই তার প্যান্টের ডান পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো ১০০ গ্রাম গাঁজা বের করে দেন।

লুঙ্গি পরা একজন ব্যক্তি কিভাবে প্যান্টের পকেট থেকে গাঁজা বের করে দিলেন, তা নিয়ে খোদ তদন্ত কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা তথ্যের সঙ্গে সিসিটিভি বা বাস্তব ঘটনার সময়ের মধ্যেও তফাত পাওয়া গেছে। আটকের সময় রাত বলা হলেও ভিডিও ফুটেজে দিনের আলো লক্ষ্য করা যায়।

এছাড়া ইশতিয়াককে আটকের সময়, স্থান এবং মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেওয়া নিয়েও ডিবি পুলিশের এজাহারের সঙ্গে বাস্তবতার কিছু অমিল রয়েছে। গত ২১ জুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইশতিয়াক। আর ওই দিন সকালেই মধুখালী থানায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি করেন ফরিদপুর ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আহাদুজ্জামান।

ডিবি পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ জুন দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে (গভীর রাতে) ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পালানোর চেষ্টাকালে ইশতিয়াককে হাতেনাতে আটক করে।

বাস্তব চিত্র ও ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ২০ জুন বিকাল সাড়ে ৫টার (দিনের আলোয়) দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লায় নিজের বাড়ির সামনে থেকে ইশতিয়াককে আটক করা হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাটি রাতের নয়, দিনের বেলার। সেখানে পুলিশ সদস্যরা ইশতিয়াককে থাপ্পড় দিচ্ছেন এবং তার দেহ তল্লাশি করছেন। একপর্যায়ে ইশতিয়াকের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরে পড়ে থাকা একটি বস্তু দেখে ডিবি সদস্যদের বলতে শোনা যায়, ‘এই যে এক পোঁটলা’।

মামলায় ডিবি পুলিশ যাদের সাক্ষী হিসেবে দেখিয়েছে, তাদের বক্তব্য পুলিশের দায়ের করা এজাহারের সঙ্গে অসঙ্গতি রয়েছে।

মামলার ১ নম্বর সাক্ষী মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ মামলায় যে ঘটনাস্থল ও সময়ের কথা উল্লেখ করেছে, তিনি সেখানে ছিলেন না। ২০ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মরিচ বাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকার সময় পুলিশ মোটরসাইকেলে এসে তার নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে নেয়। পরে তিনি জানতে পারেন তাকে মাদক মামলার সাক্ষী বানানো হয়েছে।

মামলার ২ নম্বর সাক্ষী বিনয় কুমার সাহা ঘটনার সময় মূল ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে নিজের দোকানে ছিলেন। তার ছেলে বাঁধন সাহা জানান, পুলিশ তার বাবাকে জোর করে কাগজে স্বাক্ষর করিয়েছে। বিনয় কুমার সাহা নিজে স্বাক্ষর করতে রাজি ছিলেন না।

মামলার এজাহারের অসঙ্গতির বিষয়ে জানতে চাইলে মধুখালী থানার পরিদর্শক (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, ডিবি পুলিশ এজাহার লিখে দিয়েছে। আমরা তা ২১ জুন সকালে মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছি। এজাহারের ভাষায় আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তারা যেভাবে লিখেছে, সেভাবেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর একমাত্র আসামির মৃত্যু হলে সেই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম