ভিডিও ভাইরাল
ছুটি না দেওয়ায় সহকারী শিক্ষকের হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত
Advertisement
শরীয়তপুর ও ভেদরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ছুটি না দেওয়ায় সহকারী শিক্ষকের হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীয়তপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রধান শিক্ষক ছুটি না দেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মারধর, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে সখিপুর থানা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন আলী আসাদ মিয়া। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন দেলোয়ার হোসেন।
অভিযোগ রয়েছে, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে নিয়মিত দেরিতে আসেন এবং প্রায়ই কোনো কারণ ছাড়াই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়া তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে অবহিত করলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত ২ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে দেলোয়ার হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করেন। ওই দিন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং জরুরি সভা নির্ধারিত থাকায়, প্রধান শিক্ষক আসাদ তাকে ছুটি না নিয়ে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দেলোয়ার হোসেন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষকের গলা চেপে ধরেন এবং মাটিতে ফেলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগে রয়েছে। পরে অন্য শিক্ষকরা পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার দীর্ঘদিন ধরে সময়মতো বিদ্যালয়ে আসেন না। তাকে অনেকবার অবহিত করেছি। গত বৃহস্পতিবার তিনি ছুটি চাইলে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং জরুরি সভা নির্ধারিত থাকায় তাকে ছুটি দেইনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হঠাৎ করেই আমাকে মারধর শুরু করেন। এ বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করে সখিপুর থানা ও ভেদরগঞ্জে ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছি।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার সন্তান অসুস্থ থাকায় আমি ছুটি চেয়েছিলাম, কিন্তু উনি বলেন ছুটি দেওয়া যাবে না। বিরক্ত হয়ে হাতাহাতি হয়ে যায় তখন মাথা ঠিক ছিল না। তিনি বহুদিন ধরে আমার প্রতি অত্যাচার করছিলেন। তার কারণে আমার পারিবারিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তার বিচার চাই।
এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভেদরগঞ্জে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুজাহিদ বলেন, দুই শিক্ষকের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছি। এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুবকর সিদ্দিক বলেন, অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
