Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, থানচিতে আটকেপড়া পর্যটক উদ্ধার

Advertisement

Icon

বান্দরবান প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, থানচিতে আটকেপড়া পর্যটক উদ্ধার

অব্যাহত বৃষ্টিপাতে বান্দরবানে রুমা-থানচিসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে পাহাড় ধসে পড়েছে

Advertisement

অব্যাহত বৃষ্টিপাতে বান্দরবানে রুমা-থানচিসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে পাহাড় ধসে পড়েছে। পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাহাড় ধসে কালাঘাটা, ইসলামপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে থানচি উপজেলার তীন্দু রেমাক্রীতে বৈরী আবহাওয়ায় আটকেপড়া শতাধিক পর্যটকদের প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উদ্ধার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে থানচিতে পানি বেড়ে সাঙ্গু নদী বিপজ্জনক হয়ে উঠে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আটকেপড়া শতাধিক পর্যটককে উদ্ধার করে থানচি সদরে আনা হয়। পরে সড়কপথে বান্দরবান জেলা শহরের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।

প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, গত রোববার থেকে কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বান্দরবান জেলার রুমা-থানচি, লামা-সূয়ালক সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে ছোটখাটো পাহাড় ধসে পড়েছে। পাহাড় ধসে জেলা শহরের বালাঘাটা, কালাঘাটা, ইসলামপুর, বনরুপাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার সাতটি উপজেলায় ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এদিকে পাহাড় ধসে থানচি, রুমা, রোয়াংছড়ি সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। অব্যাহত বর্ষণে সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা শহরের উজানীপাড়া, মধ্যমপাড়া এলাকায় নদী তীরবর্তী বহু ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। বাইশারীতে বন্যায় রাঙ্গাঝিরি ছড়ায় পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে আলিয়া সোলতানা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বান্দরবান জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সন্তোষ মণ্ডল বলেন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। বিশেষত গত ছয় ঘণ্টায়। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে প্রাণহানির শঙ্কা থাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয় সরে যেতে বলা হচ্ছে।

অপরদিকে বৈরী আবহাওয়ায় টানা বর্ষণে পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনস্পট বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। থানচি উপজেলাতে নাফাকুমে ৬৯ জন এবং জিন্নাপাড়ায় তিনজন গাইডসহ ২১ জন পর্যটক আটকে পড়ার তথ্য রয়েছে। এছাড়াও থানচিতে বিভিন্ন স্থানে আরও পর্যটক আটকা থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন থানচি উপজেলা ট্যুরিস্ট গাইড সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্লাইমেন ত্রিপুরা।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। থানচিতে আটকেপড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। নদী তীরবর্তী এবং পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে অবস্থানকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

‘সিলেটে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে’ গভীর রাতে বাসায় ঢুকে প্রকৌশলীকে মারধর-হুমকি

‘সিলেটে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে’ গভীর রাতে বাসায় ঢুকে প্রকৌশলীকে মারধর-হুমকি

ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, রামদায়ের কোপে ২ পুলিশ আহত

ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, রামদায়ের কোপে ২ পুলিশ আহত

শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বিপাকে, ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বিপাকে, ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হত্যা মামলায় একই পরিবারের চারজনের যাবজ্জীবন

হত্যা মামলায় একই পরিবারের চারজনের যাবজ্জীবন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম