রাঙামাটিতে পাহাড় ধস ১৩৫ স্থানে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭ হাজার ৬৪৬ পরিবার
রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সম্প্রতি টানা প্রবল বর্ষণে রাঙামাটি সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ১৩৫ স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যাকবলিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬৪৬ পরিবার, যার লোকসংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। বর্তমানে বৃষ্টিপাত কমে জলাবদ্ধতা ও বন্যার পানি সরে যাচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। তবে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় আশ্রিত লোকজন আশ্রয় কেন্দ্র থেকে নিজেদের বাড়িঘরে চলে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী পাহাড় ধস, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু শিক্ষা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভূমি ধস ও বন্যায় তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক সেতু ও কালভার্ট। বিস্তর ফসলি জমি তলিয়ে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তবে পাহাড় ধসে জেলায় কোথাও প্রাণহানির তথ্য পাওয়া না গেলেও পাহাড়ি ঢলে ভেসে গিয়ে তিনজনের প্রাণ গেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়িতে একজন করে পাহাড়ি ঢলে নিখোঁজ হওয়া তিনজনের লাশ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকি ও বন্যাসহ দুর্যোগে কবলিত হয়ে এর সর্বশেষ সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪৭ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয়ে ছিলেন ৩ হাজার ৪৮৭ জন। তবে সোমবার থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় অনেকে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে নিজেদের বাড়িঘরে ফিরছেন। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। এরপরও আবারও দুর্যোগের আশঙ্কায় ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে নিরাপদে বা আশ্রয় কেন্দ্রে সরে যেতে সতর্ক করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে বিলাইছড়ি উপজেলায়। সেখানে পাহাড় ধসের সংখ্যা ৩৭টি। এছাড়া কাপ্তাইয়ে ৩২টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি, কাউখালীতে ৩০টি, রাঙামাটি সদরে ১৩টি, নানিয়ারচরে ১৮টি ও লংগদুতে ৪টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।
