শিক্ষিকা মৌসুমি হত্যা মামলায় প্রধান আসামিকে যাবজ্জীবন
Advertisement
কিশোরগঞ্জ ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষিকা আতিয়া জাহান মৌ ওরফে মৌসুমি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ইউসুফ হায়দার ওরফে রিফাতকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্য ও জেরা শেষে মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় প্রদান করেন।
মামলার অন্য চার আসামি মো. রাজিব, মো. টিটু, ঝুমুর এবং অসীম কুমার দের দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে মো. টিটু ব্যতীত সব আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৬ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর ২০১৫ সালের দুপুর আড়াইটার মধ্যে যেকোনো সময় কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ মুক্তি সরণি সড়কের বাসায় মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জেলার মিঠামইন উপজেলার গোপদীঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতিয়া জাহান মৌ ওরফে মৌসুমিকে (২২) হত্যা করে। পরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
এর মধ্যে আসামি রাজিব মৌসুমি আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার একপর্যায়ে মৌসুমি আক্তার প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে মো. রাজিব ক্ষিপ্ত হয়ে এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়; কিন্তু মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণে এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি হিসেবে ইউসুফ হায়দার ওরফে রিফাতের নাম ওঠে আসে।
এ ঘটনায় মৌসুমির মা কবিতা আক্তার বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. শহীদুল ইসলাম খান ২০১৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মো. রহম আলী এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট অশোক সরকার এ মামলা পরিচালনা করেন। আদালতের পেশকার সোহেল রানা এবং ওই দুই আইনজীবী রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
