প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন সাবেক এমপিপুত্র রাসেল
Advertisement
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
গোলাম হাসনাইন রাসেল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মায়ের জানাজায় অংশ নিতে ৪ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন পাবনা-৩ আসনের সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের পুত্র গোলাম হাসনাইন রাসেল।
রাসেল ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকালে পাবনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মানবিক দিক বিবেচনা করে মায়ের জানাজায় অংশ নিতে তাকে ৪ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিনি পুলিশি পাহারায় মুক্তি পাবেন।
গোলাম হাসনাইন রাসেলের আইনজীবী রেজাউল করিম পলাশ জানান, গোলাম হাসনাইন রাসেলের জামিন হলেও অন্য একটি মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। পরে মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানানো হলে তিনি মঞ্জুর করেন। পুলিশ হেফাজতে মায়ের জানাজা ও দাফন শেষে যথাসময়ের মধ্যে আবার কারাগারে ফিরবেন রাসেল।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের স্ত্রী ও রাসেলের মা নুরজাহান রেখা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে সাবেক এমপিপুত্র রাসেল ও তার সহযোগী বশিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে রাসেলসহ দুইজনকে ভাঙ্গুড়া থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পাবনা কারাগারে পাঠানো হয়।
সম্প্রতি মায়ের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন উল্লেখ করে আদালতে জামিনের আবেদন জানান তার আইনজীবী। দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার (১২ আগস্ট) পাবনা জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক আফতাবুজ্জামান তার জামিন মঞ্জুর করেন।
যথাসময়ে আদালতের জামিনে মুক্তির আদেশ পাবনা জেলা কারাগারে পৌঁছলেও তাকে আর কারামুক্ত করা হয়নি। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভোরে মৃত্যুবরণ করেন রাসেলের মা।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাসেলকে আদালতে হাজির করে চাটমোহর থানায় সম্প্রতি দায়ের হওয়া অন্য একটি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখায় পুলিশ। ফলে একটি মামলায় আদালতের দেওয়া জামিন কার্যকর হওয়ার আগেই নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর কারণে মুক্তি মেলেনি তার। এতে নিজের মায়ের জানাজায় শেষবারের মতো অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে আদালত আঙিনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
