রাজনৈতিক ঘোষণায় ইউএনও’র পক্ষপাতমূলক আচরণ, কার পক্ষে প্রশাসন?
Advertisement
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপির উপস্থিতিতে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা ও ভোট চাওয়ার সময় পাশে বসে হাততালি দেওয়ার ঘটনায় রীতিমতো তুলকালাম শুরু হয়েছে। পীরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদারের এহেন অতি উৎসাহী ও পক্ষপাতমূলক আচরণে স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এখন চরম প্রশ্নের মুখে। শুধু তাই নয়, এ ঘটনার পর এক সংবাদকর্মীর সঙ্গে ইউএনওর ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও বিতর্কিত কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।
গত ২০ অক্টোবর পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের আমতলী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি জাহিদুর রহমান। পূজার শুভেচ্ছা বিনিময়ের অনুষ্ঠানে পীরগঞ্জের ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। মণ্ডপে দেওয়া বক্তব্যে এমপি জাহিদুর রহমান সেনগাঁও ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানকে আগামী ইউপি নির্বাচনে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেন।
এমপি যখন প্রার্থী পরিচয় করিয়ে দিয়ে প্রকাশ্য জনসভায় ভোট ও প্রচার চালানোর আহ্বান জানান, তখন পাশে বসা সাইদুর রহমান হাত জোড় করে ধন্যবাদ জানান। ঠিক সেই মুহূর্তেই এমপির পাশে বসা ইউএনও গোলাম রব্বানী স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাততালি দেওয়া শুরু করেন। এমপির বক্তব্যের অন্যান্য অংশেও তাকে বারবার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
ভাইরাল ভিডিও ও ঘটনার বিষয়ে জানতে চেয়ে এক সাংবাদিক মোবাইল ফোনে ইউএনওর বক্তব্য জানতে চাইলে চরম উত্তপ্ত ও বেসামাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই অডিও রেকর্ড এখন মানুষের মুখে মুখে। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ইউএনও গোলাম রব্বানী ধমকের সুরে বলেন, ‘শুধু কি আমি হাততালি দিছি, ওসি সাহেব দেয় নাই? ভালো করে দেখেন। না হলে ভালো করে লিখে দেন এমপির সঙ্গে ইউএনও নির্বাচনি প্রচারণায়।’
প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়ে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি তুলে ধরলে ইউএনও এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। তিনি বলেন, ‘আপনি এভাবে বলেন... ইউএনও ইজ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ! যে দলের সরকার থাকবে, আমি সেই দলেরই নেতা। বোঝা গেছে মেসেজটা?
কথোপকথনের একপর্যায়ে নিজেকে চরম অসহায় দাবি করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এমপির বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা আমার কেন, আমার সেক্রেটারিরও নাই....সবাই তালি দিচ্ছে, আমি না দিলে এমপি স্যার তো মাইন্ড করবে!’
এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ইউএনও দাবি করেছিলেন, এমপি তাকে ও ওসিকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে যে রাজনৈতিক বক্তব্য বা প্রার্থী পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে, তা তার জানা ছিল না এবং হাততালির ঘটনাটি ‘অনিচ্ছাকৃত’ ছিল। অথচ পরবর্তী সময়ে অডিও কলে তার উলটো রূপই বেরিয়ে আসে।
সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও জনসভায় প্রার্থীর পক্ষে হাততালি দেওয়া এবং নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট দলের নেতা দাবি করা সেই বিধিমালাকে চরমভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
সিপিবি ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু সায়েম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ওই প্রার্থী প্রশাসনিকভাবে বাড়তি সুবিধা পাবেন এবং সাধারণ প্রার্থীরা আস্থার সংকটে পড়বেন।’
সুজনের ঠাকুরগাঁও জেলার সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘একজন কর্মকর্তার মুখে এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য ও পক্ষপাতমূলক আচরণ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চিরতরে ধ্বংস করবে।’
বিষয়টি নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক দায়সারা বক্তব্যে বলেন, ‘ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে ইউএনওকে সতর্ক করেছি।
