ভোটের উত্তাপের মাঝেও সৌহার্দের ছবি, দুই প্রার্থীর আলিঙ্গনে স্বস্তি
Advertisement
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নির্বাচন মানেই তো উত্তেজনা, কথার লড়াই আর স্নায়ুযুদ্ধ। বিশেষ করে যখন লড়াইটি হয় রাষ্ট্রপতির শূন্য আসনে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াত।
কিন্তু রাজনৈতিক বৈরিতা আর সহিংসতার আশঙ্কাকে পেছনে ফেলে উত্তরের সীমান্ত জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী সম্প্রীতির দৃশ্য। তীব্র নির্বাচনি প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেই করমর্দন ও কোলাকুলিতে জড়িয়ে পড়লেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী—বিএনপির মির্জা ফয়সাল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচনকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের দৃষ্টি এই জনপদে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া এ আসনে লড়াইয়ে নেমেছে বিএনপি ও জামায়াত।
রাষ্ট্রপতির আসনে লড়াই:
রাজনৈতিক গুরুত্বের বিচারে এবারের উপনির্বাচন বিশেষ মাত্রা পেয়েছে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর উপনির্বাচনে বিএনপির কাণ্ডারি হিসেবে মাঠে নেমেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমীন। অন্যদিকে তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
দুই প্রার্থীর এই লড়াইয়ে ভোটারদের মধ্যে যখন এক ধরনের উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল, ঠিক তখনই ঘটল এই সৌহার্দপূর্ণ ঘটনা।
সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে সৌহার্দের উষ্ণতা:
বুধবার বিকালে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে নির্বাচন কমিশন আয়োজিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা নির্বাচন অফিস ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া পাঁচটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এ সভায় যোগ দেন।
সভা শুরুর আগে সার্কিট হাউস চত্বরে মুখোমুখি হন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমীন ও দেলাওয়ার হোসেন। উপস্থিত নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতার সামনেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন তারা। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সীমানা পেরিয়ে এই দুই নেতার কোলাকুলি উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।
মুহূর্তের আলাপচারিতায় জমে ওঠে পরিবেশ। জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন হাসিমুখে ফয়সাল আমীনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনার সঙ্গে দেখা হওয়া এটা দুর্ভাগ্য না সৌভাগ্য!’ উত্তরে বিন্দুমাত্র সময় না নিয়ে মির্জা ফয়সাল আমীন সস্নেহে বলেন, ‘তুমি বলো দেলাওয়ার, আমার সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য!’ এরপর তিনি আরও যোগ করেন, ‘তোমাকে আমি বলেছিলাম ভাইয়ের নির্বাচনের সময় বাসায় এসে একসঙ্গে চা খাওয়ার।’
এ সময় দুই দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনের আগে এমন দৃশ্য রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এলাকার প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রসুল স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে যখন সহিংসতার আশঙ্কায় ভুগছিলেন এলাকার ভোটাররা, তখন এই দৃশ্য ভোটারদের সংশয় অনেকটাই দূর করেছে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতপার্থক্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই; কিন্তু দিনশেষে এই সৌহার্দপূর্ণ সংস্কৃতিই সুস্থ রাজনীতির পরিচয়। এখন দেখার বিষয়, ব্যালটের লড়াইয়ে ভোটাররা কাকে বেছে নেন—মির্জা ফয়সাল আমীন, নাকি দেলাওয়ার হোসেনকে।
