ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন
সরকারি দলের ‘উন্নয়ন কার্ড’ বনাম জামায়াতের চ্যালেঞ্জ
Advertisement
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের পর শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ ছড়িয়েছে স্থানীয় রাজনীতির ময়দানে। প্রতীক বরাদ্দের দিনেই ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নির্বাচনি মাঠ এখন পুরোপুরি সরগরম।
একদিকে সরকারি দলের প্রার্থীর ‘উন্নয়নবঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা’ সংক্রান্ত মন্তব্য, অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থীর কঠোর চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দেখছেন সাধারণ ভোটাররা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রতীক বরাদ্দের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন।
অতীতে বিরোধী দলের পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নানা প্রশাসনিক বঞ্চনার স্মৃতি টেনে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ না থাকলে চাইলেও এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করা সম্ভব হয় না।
মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, যেহেতু আমার দল এখন সরকারে এবং সরকারের সঙ্গে আমার সরাসরি সংযোগ রয়েছে, তাই এলাকার মানুষ উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখে তা পূরণে আমার সরকারই কাজ করতে পারবে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে যদি বিরোধী দলের কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তবে সরকারের সেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কতটুকু এগিয়ে যাবে—তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
এ সময় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষেই রায় দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াত প্রার্থীর কড়া প্রতিক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ
বিএনপি প্রার্থীর এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। সরকারি দলের প্রার্থীর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশের যেসব এলাকায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্য রয়েছেন, সেখানকার উন্নয়ন কি বন্ধ রয়েছে? সরকারের দোহাই দিয়ে কিংবা উন্নয়নের ভয় দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ নেই।
ভোটারদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, আমি নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কোনো ভয়ভীতি নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। এই জনপদে কোনো প্রকার দুর্নীতি ও অনিয়ম বিন্দুমাত্র সহ্য করা হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো হেভিওয়েট রাজনীতিবিদের ছেড়ে দেওয়া আসন হওয়ায় স্বভাবতই দেশজুড়ে নজর রয়েছে এই উপনির্বাচনের দিকে। তার ওপর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন এবং বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন। এতে লড়াই পেয়েছে নতুন মাত্রা।
সরকারি দলের ‘উন্নয়ন ধারাবাহিকতার কার্ড’ বনাম জামায়াতের ‘দুর্নীতিমুক্ত টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ’—এই দুই মেরুর মধ্যে ভোটাররা কাকে বেছে নেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাঁচজন প্রার্থী পুরোদমে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
