শিশির মনিরকে একহাত নিলেন রাশেদ খান
Advertisement
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন রাশেদ খান
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই করায় আইনজীবী শিশির মনিরকে একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান।
তিনি জামায়াত-শিবিরের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, একদিকে খুনিদের পক্ষে আইনজীবী দাঁড় করানো, অন্যদিকে রাজপথে বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করা—তাদের এই চরম দ্বিমুখী রাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহের ওয়াজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বুধবার শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং একই সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে রাজপথে সব সংগঠন নেমেছিল। ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠন কর্মসূচি পালন করেছে। এমনকি ছাত্রশিবির ও এনসিপিও কর্মসূচি পালন করেছে; কিন্তু আমার মৌলিক প্রশ্ন হলো, আবরার ফাহাদের নির্মম খুনিদের আইনজীবী হয়েছিলেন শিশির মনির, যিনি জামায়াতের একজন শীর্ষ পর্যায়ের আইনজীবী। তিনি জামায়াতের মনোনীত এমপি প্রার্থী ছিলেন, দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে থাকেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোতেও তাকে প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
শিবিরের কর্মসূচির সমালোচনা করে রাশেদ খান প্রশ্ন তোলেন, জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির যখন আবরার ফাহাদের খুনিদের বাঁচানোর লড়াইয়ে নামেন, তখন শিবির কোন নৈতিকতায় ও কোন লজ্জায় রাজপথে বিচার চেয়ে কর্মসূচি পালন করে? জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় এই শিশির মনিররা কখনো রাজপথে নামেননি। এমনকি তার ফেসবুকে জুলাইয়ের পক্ষে কোনো পোস্ট ছিল কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে; তার প্রোফাইলটাও লাল করা হয়নি। জামায়াতের আমিরও তার প্রোফাইল লাল করেননি। অথচ আজ তারা জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার বড় বড় দাবি করছে।
বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, জামায়াতের আমিররা গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে রাজপথে নেমেছেন—এমন একটি ছবি বা ভিডিও তারা দেখাতে পারবে না; কিন্তু বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আন্দোলনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী সমন্বয়করা।
রাশেদ খান বলেন, আবরার ফাহাদের বাবাও সম্প্রতি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, খুনিদের পক্ষে শিশির মনিরের মতো আইনজীবীর দাঁড়ানো অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিবির ছাত্রদলের পরিচয় নিয়ে টিকে ছিল। এখন প্রশ্ন জাগে, আবরারের প্রকৃত খুনিদের মধ্যে নামধারী ছাত্রলীগ পরিচয়ের আড়ালে কি শিবিরের কেউ জড়িত ছিল? তাদের রক্ষা করতেই কি জামায়াত আইনজীবী হিসেবে শিশির মনিরকে মাঠে নামিয়েছিল?
জামায়াতের নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, আমি জামায়াতকে বলব, আপনারা যদি সত্যিকার অর্থেই আবরার ফাহাদের চেতনাকে ধারণ করেন, তবে খুনিদের আইনি সহায়তা দেওয়া শিশির মনিরকে দলে রাখতে পারেন না। তাকে অবিলম্বে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করতে হবে। যে ব্যক্তি আবরারের খুনিদের পক্ষে দাঁড়ায়, সে জামায়াত করতে পারে না, বাংলাদেশের রাজনীতিতেও তার জায়গা হওয়া উচিত নয়। তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা জামায়াত-শিবিরের নৈতিক দায়িত্ব ছিল; কিন্তু তারা তা না করে তাকে মনোনয়ন দিয়ে পুরস্কৃত করেছে।
ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, ডাকসুর ভিপি দাবিদার সাদিক কায়েম আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে কর্মসূচির আয়োজন করছেন। জামায়াত-শিবির ঐতিহাসিকভাবেই এমন দ্বিমুখী রাজনীতি করে আসছে। বাংলাদেশে আবরার হত্যাকারীদের রক্ষাকারী শিশির মনিরদের পুনর্বাসিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
