প্রার্থীর সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তার গোপন বৈঠক, শোকজ
Advertisement
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের সঙ্গে গোপনে বৈঠক ও নির্বাচনি প্রচারণামূলক আলোচনার অভিযোগে মো. রাজু আলী নামের এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে আসনটির ১১ দলীয় প্রার্থীর লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেয় নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
বিচারিক কমিটির প্রধান এবং ঠাকুরগাঁওয়ের ১ম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাদিয়া আফসানা রিমা রোববার (১১ অক্টোবর) এই আদেশে স্বাক্ষর করেন। সোমবার নোটিশটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হাতে পৌঁছায়।
আদেশে অভিযুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জজ আদালতের ২১১ নম্বর কক্ষে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ঠাকুরগাঁও সদরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজু আলীর নেতৃত্বে গত ৫ অক্টোবর রাত ৮টায় ৩৮ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়, যা ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর ২১ (ক) অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীর সঙ্গে এমন সাক্ষাৎ ও আলোচনার দায়ে কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে আদেশে।
এদিকে অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজু আলী বলেন, ৫ অক্টোবর বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে সাক্ষাতের যে কথা বলা হয়েছে, তা সত্য নয়। আমরা সেদিন কোথাও যাইনি। ওই দিনের তথ্য যাচাই করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। অনেক আগে সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রীর সময়ে আমাদের সংগঠনের কিছু দাবিদাওয়ার বিষয়ে দেখা করেছিলাম। কিন্তু সম্প্রতি কোনো রাজনীতি বা প্রার্থীর কার্যালয়ে যাইনি।
তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নোটিশের আনুষ্ঠানিক জবাব দেবেন বলে জানান।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসিরুল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি সোমবার সকালে জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, রোববার আমি মিটিংয়ে বাইরে ছিলাম। আজ অফিসে এসে বিষয়টি শুনেছি। আসলে কী ঘটেছে, তা যাচাই করে দেখছি। চিঠির কপিটি এখনও দেখিনি; তাই না দেখে চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি পাওয়ার আধঘণ্টার মধ্যেই তা বিচারিক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি এখন আদালতের এখতিয়ারভুক্ত ও বিচারাধীন। আদালতই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আমরা ১৮৫টি ভোট কেন্দ্রের প্রধান ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি।
