কসবার প্রধান সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ, দুর্ভোগে স্থানীয়রা
Advertisement
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:০১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার চৌমুহনী বাসস্ট্যান্ড থেকে উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা। চৌমুহনী বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২শ হাত দূরে ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের কাছ থেকে একটি সেতু পর্যন্ত সড়কের পাশে দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে।
এতে পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা, যানবাহনের চালক ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের এক পাশে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি বর্জ্য, পলিথিন, প্লাস্টিক, কাপড় ও অন্যান্য আবর্জনা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে এসব বর্জ্য ভিজে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ময়লার স্তূপের পাশেই রয়েছে ফসলি জমি ও জলাশয়। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে এভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার অবহিত করলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। ময়লার দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের কারণে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় যানবাহনের চালকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ থাকায় দুর্গন্ধের মধ্যদিয়ে যানবাহন চালাতে হয়। বাতাসে ময়লার কাগজ ও পলিথিন উড়ে সড়কে চলে আসে। এতে পথচারী ও চালকদেরও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
কসবা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মানিক সিকদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। ময়লার কারণে আমাদেরও অনেক সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের বসবাস ও দৈনন্দিন কাজে দুর্ভোগ হচ্ছে। ডাইনিং রুমে বসে খাবার খাওয়ার সময়ও ময়লার দুর্গন্ধ পাওয়া যায়।
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ইমন চৌধুরী বলেন, ময়লা-আবর্জনায় বিভিন্ন ধরনের জীবাণু থাকতে পারে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাকসহ বিভিন্ন অণুজীব শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এতে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির ফোনটি ধরেন।
তিনি বলেন, স্যার একটু অসুস্থ, বিশ্রামে আছেন। বিষয়টি নিয়ে স্যারের সঙ্গে পরে যোগাযোগ করবেন। আর যেহেতু জায়গাটি পৌরসভার ভেতরে, এ বিষয়ে আমি বক্তব্য দিতে পারছি না।
স্থানীয়দের দাবি, জনবহুল সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এসব ময়লা দ্রুত অপসারণ করে নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
