২৯ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের পার্শেল ডাকঘরে এসে হয়ে গেল ১৯ কেজি!
Advertisement
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৌদি আরব থেকে পাঠানো ২৯ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের মালামাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরে পৌঁছার পর তা হয়ে গেল ১৯ কেজি ৭০০ গ্রাম! সরকারি ডাক বিভাগের মাধ্যমে আসা এ পার্সেলে প্রায় ১০ কেজি ২০০ গ্রাম মালামাল কম পাওয়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ওজনে কম দেখে পার্সেল গ্রহণে আপত্তি জানালে প্রাপকের সঙ্গে প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি করে ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. আতিকুর রহমান।
ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পশ্চিম পাইকপাড়ার বাসিন্দা। তিনি জানান, সৌদি আরব থেকে তার নামে উন্নতমানের খেজুর, লোশন, ক্রিম, সাবান, চকলেট ও জুতোভর্তি একটি কার্টন পার্সেল করে পাঠানো হয়েছিল। গত রোববার (৪ অক্টোবর) পার্সেলটি গ্রহণের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া পোস্ট অফিস থেকে তাকে ফোন করা হয়। পরদিন সোমবার (৫ অক্টোবর) তিনি পার্সেলটি নিতে গিয়ে দেখেন কার্টনটির দুই পাশ ছেঁড়া। প্রেরিত পার্সেল বক্সে ওজন ২৯.৯০ কেজি লেখা থাকলেও ডাকঘরে ডিজিটাল স্কেলে ওজন করে পাওয়া যায় মাত্র ১৯.৭০ কেজি। অর্থাৎ পার্সেল থেকে ১০ কেজি ২০০ গ্রাম মালামাল উধাও হয়ে গেছে।
এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার জিনাত রেহানা তাকে বলেন, পার্সেলটি ছেঁড়া অবস্থাতেই রিসিভ করা হয়েছে, এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।
ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, পার্সেল ছেঁড়া অবস্থায় এলে প্রাপককে তা গ্রহণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে কেন? জবাবে পোস্টমাস্টার দাবি করেন, তারা অফিশিয়ালি নোট রেখেছেন। একপর্যায়ে শুল্ক ও মাশুল বাবদ নির্ধারিত ৭ হাজার ৯৮৮ টাকা পরিশোধ করে পার্সেলটি নিতে তাকে চাপ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে উপস্থিত অন্যান্য ডাক কর্মকর্তার পরামর্শে বাধ্য হয়ে টাকা পরিশোধ করে পার্সেলটি খোলেন আতিকুর রহমান। ভেতরে দেখা যায় প্রতিটি প্যাকেটই খোলা অবস্থায় রয়েছে এবং মূল্যবান খেজুর, লোশন, ক্রিম, সাবান ও চকলেটসহ সিংহভাগ মালামালই গায়েব।
ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পার্সেলে মালামাল কম থাকার বিষয়ে প্রতিকার চাইতে গেলে পোস্টমাস্টার জিনাত রেহানা আমার সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন এবং বলেন পার্সেল এভাবেই আসে। এমনকি লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে সেটি নিতেও দীর্ঘক্ষণ গড়িমসি করা হয় এবং রিসিভ কপিতে সিল দিতে অস্বীকৃতি জানান। এখানেই শেষ নয়, বাসায় ফেরার পর পোস্ট অফিস থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি আমাকে ফোন করে এ বিষয় নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার জিনাত রেহানা বলেন, আমাদের এখানকার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী পার্সেলের প্যাকেট খোলেননি। মালামাল চট্টগ্রাম থেকে যেভাবে এসেছে, আমরা ঠিক সেভাবেই পেয়েছি। ওজনে কম থাকার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
