কাজের কথা বলে কিশোরীকে আটকে নিপীড়ন, যে কারণে মামলা করবেন না বাবা-মা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
নাসিরনগর থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গৃহকাজের কথা বলে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে আটকে রেখে যৌনকর্মে বাধ্য করার চেষ্টা ও অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। এতে রাজি না হওয়ায় আটকে রেখে মারধর এবং গরম চামচ ও খুন্তি দিয়ে ওই কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।
তবে মাত্র ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে গ্রাম্য সালিশে আপস হওয়ায় এ ঘটনায় থানায় মামলা দিতে রাজি নন ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা-মা।
ভুক্তভোগী কিশোরী, স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলার ধরমণ্ডল ইউনিয়নের ওই কিশোরীকে তার পরিবার দূর-সম্পর্কের ফুফা মৃত জামাল মিয়ার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠায়। সেখানে গৃহকাজের আড়ালে তাকে দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার চেষ্টা চালান তার ফুফাতো বোন তাসলিমা বেগম, তাসলিমার স্বামী রাজা মিয়া, বোন খাদিজা বেগম ও ভাই লালন মিয়া। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে নিয়মিত মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হতো বলে অভিযোগ করেছে কিশোরী।
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় ১০-১২ দিন আগে সেখান থেকে পালিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসে কিশোরীটি। এরপর গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পান-সুপারি কিনতে স্থানীয় বাজারের দিকে গেলে অভিযুক্তরা তাকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে মুখ বেঁধে তার ওপর রাতভর বর্বর নির্যাতন চালানো হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, তার দুই হাতের কনুইয়ের ওপর ও পিঠে গরম চামচ ও খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। ধারালো বস্তু দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয় তার ডান পা। পরে তার কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সে।
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকালে কিশোরীর দুই চাচা অভিযুক্ত পরিবারের সঙ্গে গ্রাম্য সালিশে বসেন। সেখানে ৫০ হাজার টাকায় পুরো বিষয়টি রফাদফা করা হয় বলে জানা গেছে। তবে এই ৫০ হাজার টাকার মধ্যে কিশোরীর পরিবারকে দেওয়া হয় মাত্র ৬ হাজার টাকা; বাকি ৪৪ হাজার টাকা দুই চাচা নিজেদের পকেটে পুরে নেন।
এ বিষয়ে কিশোরীর বাবা-মা সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এক চাচা দাবি করেন, বিষয়টি আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ঘটেছে, তাই আমরা নিজেরা বসে মিটিয়ে ফেলেছি।
ধরমণ্ডল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও অমানবিক। এমন ফৌজদারি অপরাধ কখনো গ্রাম্য সালিশে মীমাংসাযোগ্য নয়। কয়েকজন মিলে ৫০ হাজার টাকায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যার মধ্যে কিশোরীর পরিবারকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬ হাজার টাকা। সালিশকারীরা এখন গা-ঢাকা দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকালে নাসিরনগর থানার ওসি ঘটনাস্থল ও ইউনিয়ন পরিষদে তদন্তে আসেন। সেখানে কিশোরীর মা উপস্থিত হয়ে ৬ হাজার টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং থানায় কোনো মামলা করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
নাসিরনগর থানার ওসি মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে ভুক্তভোগী পরিবার কোনো লিখিত অভিযোগ দিতে রাজি হচ্ছে না। ভুক্তভোগীর মা জানিয়েছেন তারা মামলা করবেন না। লিখিত অভিযোগ না পেলে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় এগোতে পারছি না।
