প্রতিমন্ত্রীর সামনে যুবলীগ নেতার স্ত্রী-সন্তানদের কান্নাকাটি
Advertisement
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের কাছে ভৈরবের সাবেক পৌর যুবলীগ নেতা মো. আল-আমিন সৈকত (৪৩) হত্যার বিচার দাবি করলেন তার পরিবার। এ সময় কাঁদলেন তার স্ত্রী, সন্তান ও তার মা। তাদের কান্না দেখে প্রতিমন্ত্রীরও চোখের পানি চলে আসে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ১০টায় ভৈরব বাজার পুলিশ ফাঁড়ির অফিস রুমে। ভৈরব চেম্বার ও পুলিশ সুপারের উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা উদ্বোধন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান ছিল ফাঁড়ির ভবনের সামনের মাঠে। এই ফাঁড়ির সামনে ফকির মার্কেটের তিনতলায় যুবলীগ নেতা আল-আমিনের বাসা।
আল-আমিন ভৈরব পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর, ভৈরব চেম্বারের সাবেক পরিচালক, জেলা সার সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
জানা গেছে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম পুলিশ ফাঁড়িতে ওই অনুষ্ঠানে শনিবার সকালে প্রধান অতিথি হয়ে আসেন। খবর পেয়ে নিহত পৌর যুবলীগ নেতা আল-আমিন সৈকতের পরিবারের সদস্যরা প্রতিমন্ত্রীর কাছে উপস্থিত হন।
এ সময় আল-আমিন সৈকতের মা মিনা বেগম, স্ত্রী তানিয়া খানম, ছোট ছেলে আয়াত ও দুই মেয়ে খুনের ঘটনার বিবরণ দেন। তারা বলেন, ঘটনাটির ৬ দিন পার হলেও এখনো খুনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রতিমন্ত্রী এ ঘটনা শুনে ও তাদের কান্না দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। এ সময় তার চোখেও পানি চলে আসে। ছোট ছেলে আয়াত বলেন, আমিতো আর বাবা ডাক ডাকতে পারব না। আমরা এতিম হয়ে গেলাম।
স্ত্রী তানিয়া খানম বলেন, আমাকে বিধবা করে দিল অপরাধীরা।
মা মিনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না। তবে অপরাধীদের ফাঁসি হলে আমি শান্তি পাব।
পরে তাদের সব কথা শুনে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম পুলিশকে নির্দেশ দেন এই খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে দ্রুত খুঁজে বের করে গ্রেফতার করতে হবে। অপরাধীদের গ্রেফতার করার পর তাদেরকে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি। তারপর তার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে বিদায় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব, ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ, থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা।
ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার পর থেকে সিসি ক্যামেরা দেখে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালাচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই আসামিরা গ্রেফতার হবে। খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তা তদন্ত করে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ রেহাই পাবে না।
