আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৪
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে দুইপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা সাগরপাড় বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে রোববার রাতে ওই ইউনিয়নের চরআন্ডা সাগরপাড় বাজারের দুই প্রান্তে দুইপক্ষের লোকজন অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একপক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস খান। অপরপক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন একই ওয়ার্ড যুবদলের বহিষ্কৃত সভাপতি কামাল সিকদার। তবে সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন।
কামাল সিকদারের দাবি, চরআন্ডার পূর্ব পাশের চরে প্রায় ২শ একর খাসজমিতে ইদ্রিস খানের নেতৃত্বে আলমাছ খান ও বেল্লাল তালুকদার ধান চাষ করেছেন। এর আগে ওই চরে স্থানীয় বাসিন্দারা গরু-মহিষ চরাতেন। সেখানে ধান চাষ শুরু করার পর স্থানীয় লোকজনের গবাদিপশু চরাতে গেলে বাধা, মারধর ও হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে তার দাবি।
কামালের অভিযোগ, রোববার রাতে পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা নিয়ে ইদ্রিস খানের নেতৃত্বে তাদের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়।
এ হামলায় কামাল সিকদারের পক্ষের আহত নজরুল মাঝি, খলিল শিকদার, সবুজ মাঝি ও কালু মল্লিক গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া আরও দুজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইদ্রিস খানের দাবি, সানজিদা নামের এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত ও তুলে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত।
তার ভাষ্য, সপ্তাহখানেক আগে চরআন্ডা পূর্ব আবাসনের বাসিন্দা কাঞ্চন হাওলাদারের বাড়িতে তার নাতনি সানজিদা বেড়াতে আসে। সানজিদা তারও দুঃসম্পর্কের আত্মীয় বলে জানান ইদ্রিস খান।
ইদ্রিস খানের অভিযোগ, ওই বাড়িতে আসার পর থেকে কামাল সিকদারের ভাই জাহিদ সিকদারের ছেলে সিয়াম সিকদার সানজিদাকে উত্ত্যক্ত করতেন। কয়েক দিন আগে সানজিদাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে সানজিদার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে সিয়ামকে আটক করে মারধর করেন বলে দাবি করেন ইদ্রিস।
ইদ্রিস খান বলেন, ওই ঘটনার পর তাকে অপমান-অপদস্থ করেন কামাল ও তার বাড়ির লোকজন। এর জেরে রোববার রাতে তাদের বাড়ির লোকজন সাগরপাড় বাজারে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ডেকে নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
তবে খাসজমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওই জমিগুলো দীর্ঘদিন আগেই বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে।
ইদ্রিস খানের পক্ষে আহত সাখাওয়াত, জুলহাস, মজলু, সাকিবুল, রাকিব, সবুজ খান, অলিল খান ও মাহফুজকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আহতদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তাদের চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ কিংবা মামলা করেনি। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
