পুলিশের তাড়ায় সংবাদ সম্মেলন ফেলে পালালেন যুবদল নেতা, দল থেকে বহিষ্কার
Advertisement
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ফার্মেসি ও বিকাশ ব্যবসায়ীকে চাঁদার দাবিতে ব্যক্তিগত কার্যালয়ে প্রায় ৬ ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তার স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে যুবদল নেতা ফজলুল হক রুমান ওরফে ভাইরাস রুমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন চলাকালে পুলিশের তাড়া খেয়ে পালিয়ে যান ওই যুবদল নেতা।
এদিকে রোববার জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান মোল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসির আকরাম পলাশ, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলামের যৌথ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ফজলুল হক রুমান ওরফে ‘ভাইরাস রুমান’ (৪৫) মাওনা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে।
ভুক্তভোগী আতিকুল ইসলাম (৩৫) একই গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি ডেকু গার্মেন্টসের সামনে সরকার মার্কেটে ফার্মেসি ও বিকাশের ব্যবসা করেন। তাকে ৬ ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তার স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ভাইরাস রোমানের নামে শ্রীপুর থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগে আতিকুল বলেন, ভাইরাস রোমান বিভিন্ন সময় তার কাছে নানা কায়দায় চাঁদা দাবি করে আসছে। ১ সেপ্টেম্বর রাতে এক অজ্ঞাত নারী তার ফার্মেসিতে এসে হার্টের ওষুধ চান। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
পরে ওই নারীর পক্ষ নিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে রুমানের ভাতিজা জাহিদের মাধ্যমে ফার্মেসি ব্যবসায়ী আতিকুলকে ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ওষুধ না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে গালিগালাজের পর তাকে লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে উরু, বুক, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন আতিকুল। তার সঙ্গে থাকা ওষুধ ও বিকাশ ব্যবসার নগদ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
আতিকুলের অভিযোগ, সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত তাকে দফায় দফায় মারধর করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে রাতে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে টাকা সংগ্রহের জন্য তাকে দুই ঘণ্টার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে বিকাল ৩টার দিকে আতিকুলের স্ত্রী আফসানা মিমি (৩১) ও বড় ভাই শফিকুল ইসলাম (৪০) ওই কার্যালয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়।
আতিকুলের দাবি, তার স্ত্রীকে চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি এবং তার ভাইকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় দুজনকেই শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আতিকুল আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও ত্রাণ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে তার মুদি দোকান থেকে চাল, ডাল, তেল, সাবানসহ বিভিন্ন পণ্য নেওয়া হয়েছে; কিন্তু এসব পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা হয়নি।
এদিকে ভুক্তভোগীরা গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর সঙ্গে দেখা করে বিচার দাবি করেন। পরে এমপির নির্দেশে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযুক্তের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে দলীয় নেতাদের ছবি সরিয়ে কার্যালয়টি বন্ধ করে দেন।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনূর আলম জানান, এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের তৎপরতা চলছে।
