এক স্বামীকে নিয়ে দুই স্ত্রীর তুলকালাম
Advertisement
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
লিটন সরকার। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক স্বামীকে কেন্দ্র করে দুই নারীর মধ্যে প্রকাশ্যে মারামারির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে লালমনিরহাটের তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে চুল ধরে টানাটানি ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন তারা। পরে স্থানীয়রা দুই নারীকে সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আলোচিত এ ঘটনার কেন্দ্রের ব্যক্তি লিটন সরকার রাজারহাট উপজেলার পশ্চিম দেবোত্তর মৌজার চায়না বাজার এলাকার মৃত ফজল কমান্ডারের ছেলে। তিনি ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিটন সরকারকে নিজের স্বামী দাবি করে দুই নারীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন, লিটন তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করেছেন। এ সংক্রান্ত তালাকনামা তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে প্রথম স্ত্রী দাবি করছেন, তাকে তালাক দেওয়া হয়নি এবং লিটন দ্বিতীয় বিয়েও করেননি।
এ নিয়ে তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে দুই নারীর মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী হামিদুল হকের ভাষ্য, দুজনে মারামারি করছিল। একে অপরকে বলছিল, তোকে তালাক দিয়েছে লিটন।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা দুই নারীকে থামিয়ে গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন মেম্বারের জিম্মায় দেন। পরে তাদের চায়না বাজার এলাকায় নেওয়া হলে সেখানেও উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।
গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন বলেন, তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে দুই নারী মারামারি করছে শুনে সেখানে যাই। পরে দুজনকেই চায়না বাজারে নিয়ে আসি। তারা দুজনেই লিটনের বউ বলে দাবি করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের আমার জিম্মায় রাখা হয়।
গোকুন্ডা ইউনিয়নের মিঠু মিয়া বলেন, বাসস্ট্যান্ডে দুইটা মেয়ে চুল ধরে মারামারি শুরু করে। আমরা তাদের ঝগড়া থামিয়ে নিয়ে আসি।
লিটনের দ্বিতীয় স্ত্রী জানান, লিটনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর তিনি জানতে পারেন, লিটন ঢাকায় নেই। পরে লিটন প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করতেই তিনি সেখানে আসেন বলে দাবি করেন। তার কাছে তালাকনামা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তার দাবি, লিটন আমাকে বলেছিল, সে তার বউকে ডিভোর্স দিয়েছে। সেটি যাচাই করার জন্য এসেছি।
তিনি আরও জানান, তার আগে একটি সংসার ছিল এবং সেটি ত্যাগ করে লিটনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ফাইনাল ও ইন্টার্নি করা ব্যক্তি বলেও পরিচয় দেন লিটন।
অন্যদিকে লিটন সরকার বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করলেও তিস্তা বাসস্ট্যান্ড ও চায়না বাজারে দুই নারীর মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় চায়না বাজারসহ রাজারহাটজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিষয়টির আইনগত ও সামাজিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

-6aa66d2dd0f0c.jpg)
