‘ছাত্রদল করে কি বৈধ ব্যবসা করতে পারব না’
Advertisement
জাভেদ মোস্তফা, ঢাকা উত্তর
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ধামরাইয়ে জমি দখলের অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ছাত্রদল নেতা রাফিজুল ইসলাম রবিন। তিনি বলেছেন, ‘আমি ছাত্রদল হিসেবে কী করে খাব? আমার তো ফ্যামিলি আছে, ছাত্রদল করে কি বৈধ ব্যবসা করতে পারব না? আমার তো আর কোনো ব্যবসা নাই।’
ঢাকার ধামরাইয়ে একটি জমিতে বায়নাপত্র করে সাইনবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে জমি দখলের অভিযোগ উঠে ধামরাই থানা ছাত্রদল সভাপতি রাফিজুল ইসলাম রবিনের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জমি দখলের অপপ্রচারের প্রতিবাদে আজ (মঙ্গলবার) সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি বৈধভাবে ওই জমি বায়না করেছি। কাগজপত্র যাচাই করে ৫ লাখ টাকা বায়না দিয়েছি। এ সময় জমির মালিক রমজান আলী ও তার ছেলে উপস্থিত থেকে জমি বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করে জবরদখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন। জমির মালিকের ছেলে বলেন, জমির বৈধ মালিকানা নিয়ে একটি পক্ষ দাবি করলে একাধিকবার থানায় বসা হয়েছে। সেখানে আমাদের মালিকানা সঠিক বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে রবিন আজ (মঙ্গলবার) বিকালে মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, বিগত সরকারের আমলে আমার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা হয়েছে। পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। আবার কলেজে ভর্তি হবো ভাবছি। এখন জমির ব্যবসা করে কিছু উপার্জন না করলে ফ্যামিলি নিয়ে কিভাবে চলব। তিনি বলেন, জমিতে সাইনবোর্ড দেওয়ার পর কোনো প্রতিপক্ষ তার কাছে আসেনি।
সম্প্রতি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাফিজুল ইসলাম রবিনের বিরুদ্ধে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে জমি দখলের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে বিতর্কিত জমিতে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি। এ সময় জমির কাগজপত্র উপস্থাপন করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন রবিন ও জমির মালিকপক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে রাফিজুল ইসলাম রবিন আরও দাবি করেন, একটি মহল তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, জমিটির এসএ ও আরএস রেকর্ড, নামজারি-খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই তিনি বায়না দলিলের মাধ্যমে জমিটি কিনেছেন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থাকলেও আমার একটি পরিবার রয়েছে। বৈধ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা করা কোনো অপরাধ নয়। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জমির মালিক রমজান আলী বলেন, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি নিজেই রবিনের কাছে জমি বিক্রির জন্য বায়না করেছেন।
তিনি বলেন, জমির খাজনা-খারিজ, পর্চা ও দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক আছে। কাগজপত্র দেখিয়ে আমি নিজেই জমি বিক্রির বায়না করেছি এবং বায়না স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে টাকা নিয়েছি। জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ সঠিক নয়।
রমজান আলীর ছেলে জানান, জমিসংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে এর আগে থানায় বসেও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তাদের দাবি, জোরপূর্বক জমি দখলের কোনো ঘটনা ঘটেনি; বরং তারা স্বেচ্ছায় ও বৈধ প্রক্রিয়ায় জমিটি বিক্রির জন্য বায়না করেছেন।
ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের জমি দখল ও সাইনবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে একটি অভিযোগ থানায় এসেছিল বলে জানি। তবে পরে কী সমাধান হয়েছে- তা আমি বলতে পারব না। তবে পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ডিউটিতে অন্যত্র থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
