দুই নৃত্যশিল্পীকে গণধর্ষণ, মূলহোতা গ্রেফতার
Advertisement
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাচের অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই নৃত্যশিল্পীকে গণধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি মুজাহিদ ওরফে রাকিবকে (২২) সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)।
বুধবার সিলেটে এসআরবি-৯ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) শেখ মো. রিজাউল করিম জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিয়ানীবাজারে অভিযান চালিয়ে সরাইল উপজেলার বুড্ডা গ্রামের আঙ্গুর মিয়ার ছেলে মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘রাকিব’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে গত ৮ সেপ্টেম্বর সরাইলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচের জন্য ৯ হাজার টাকায় একটি পেশাদার নৃত্যদলের সঙ্গে চুক্তি করে মুজাহিদ এবং ২ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করে। চুক্তি অনুযায়ী ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে এক তরুণ সহকর্মীর সঙ্গে এক কিশোরী (১৬) ও এক তরুণী (১৯) সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে পৌঁছালে মুজাহিদ ও তার সহযোগীরা তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তিতাস নদীর শাহবাজপুর সেতু এলাকায় নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সেখান থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তিতাস নদীর মাঝখানে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আগে থেকেই আরও তিন যুবক সশস্ত্র অবস্থায় অপেক্ষা করছিল।
নদীর নির্জন স্থানে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে সঙ্গে থাকা তরুণকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুই নারী শিল্পীর ওপর পৈশাচিক নির্যাতন ও গণধর্ষণ চালায় অভিযুক্ত পাঁচ যুবক। তাণ্ডব শেষে রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার ভূঁইয়ার ঘাট এলাকায় কাদাপানিতে ফেলে রেখে তারা নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করার পর স্থানীয় পুলিশ প্রথমে শান্ত বিশ্বাস (১৯) নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত শান্ত বিশ্বাসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-৯ এর একটি আভিযানিক দল সিলেটের বিয়ানীবাজারে অভিযান চালিয়ে প্রধান পরিকল্পনাকারী ও মূলহোতা মুজাহিদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৯ প্রধান শেখ মো. রিজাউল করিম এবং সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক জানান, গ্রেফতার মুজাহিদকে সরাইল থানায় হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং পৈশাচিক এই গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত বাকি চার আসামিকে অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনতে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
