ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে যমজ ভাইসহ ৩ ছাত্রের মৃত্যু
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ভাটিবন্দর এলাকা দিয়ে প্রবাহিত মেঘনা নদীতে ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে রোববার দুপুরে গোসল করতে নেমে যমজ ভাইসহ ৩ স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
মৃতরা হলো- যমজ ভাই আরিফিন (১৫) ও আশিকিন (১৫) ও একই এলাকার আবির হোসেন (১৪)। মৃতরা সবাই উপজেলার মোগরাপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দীর্ঘ প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে নদীর তলদেশ থেকে নিখোঁজ ওই ৩ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিশ এলাকায় বসবাসরত মোগরাপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী যমজ ভাই আরিফিন ও আশিকিন, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিজ আহমেদ তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে রোববার দুপুর ১২টার দিকে ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। নদীতে নামার কিছুক্ষণ পরই যমজ সহোদর ভাই আরিফিন, আশিকিন ও আবির পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালায়।
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আরিফিন ও আশিকিনের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির দল। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর আবিরের লাশ উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থী ফারিজ আহমেদ জানায়, আমরা আজ স্কুলে না গিয়ে ভাটিবন্দর এলাকায় কাঁশবন দেখতে এসেছিলাম। একপর্যায়ে সবাই মিলে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে পড়ি। আমি তীরের কাছাকাছি থাকায় বেঁচে যাই; কিন্তু আমার দুই চাচাতো ভাই ও তাদের এক বন্ধু নদীর পাড়ের একটি বালুর ট্রলারে ওঠে। ট্রলার থেকে নামার সময় তারা হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যায়। পরে তাদের লাশ পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদীর ভাটিবন্দর এলাকায় কয়েকটি বাল্কহেড নোঙর করা ছিল। নোঙর করা বাল্কহেডের পাশ দিয়ে শিক্ষার্থীরা গোসলে নেমে ছিল। এ সময় একটি বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করে চলে যাওয়ার সময় ধাক্কায় শিক্ষার্থীরা তলিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, বাল্কহেডের পাখার সঙ্গে আঘাত পেয়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। এলাকাবাসী শিক্ষার্থীদের তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বাল্কহেডের সুকানিকে দায়ী করেন ও তাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গোসলে নেমে তারা পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন পানি থেকে উঠে আসতে সক্ষম হয়েছে। অপর তিনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন বলেন, চলতি বছরের ১৭ জুন উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা ঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে রাজধানীর দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেরাজ ও কায়েস ভূঁইয়া নামের আরও দুই শিক্ষার্থী মারা যায়। শিক্ষার্থীদের অসচেতনতার কারণে একের পর এক মেঘনা নদীতে তলিয়ে শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনায় মেঘনা নদীতে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে মোগরাপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার ঘটনায় তাদের পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল বারিক বলেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের উদ্ধারের জন্য নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে তৎপর ছিল। নিখোঁজ তিনজনের লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে চাইলে মামলা গ্রহণ করা হবে।
