চুয়েটে ফের উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে সর্বাত্মক শাটডাউন
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো ও চুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ৫৬ দিনের মাথায় নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার রাত থেকে চুয়েটে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবারও এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হয়। এদিন সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে তাদের এ অবস্থান কর্মসূচি বলে জানা যায়।
শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি দিনভর নানা স্লোগান ও বিক্ষোভে উত্তাল ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। উপাচার্য নিয়োগ ও অব্যাহতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য পদে বহালের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’, ‘ভিসির চেয়ার কারে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’, ‘ভিসি স্যার, ভিসি স্যার; সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’।
তাদের ঘোষিত এক দফা দাবিটি হচ্ছে- অবিলম্বে সদ্য জারি করা উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
একইসঙ্গে পরবর্তী কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিগুলো হলো-
১. সর্বাত্মক শাটডাউন: দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চুয়েটের সব একাডেমিক কার্যক্রম ক্লাশ, পরীক্ষা ও ল্যাব এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি ও মানবিক সেবার স্বার্থে নিরাপত্তা শাখা ও মেডিকেল সেবা এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।
২. গণ-অবস্থান ও বিক্ষোভ: প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে ২১, ২২, ২৩, ২৪ ও ২৫ ব্যাচসহ সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে গণ-অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে।
৩. উপাচার্য ভবনে অবস্থান: শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে। অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, আমাদের উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে পূর্ব কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার রাত থেকেই আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আমরা ক্যাম্পাস শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আমাদের দাবি আদায়ের আগপর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।
এদিকে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। এতে কর্মকর্তা এবং কর্মচারী সমিতির নেতারাও অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. বসির জিসান বলেন, রোববার আবু সাদাত সায়েম স্যার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি মিটিংয়ে যোগ দিয়েছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি জানতে পারেন, তিনি আর উপাচার্য পদে নেই। এটি অত্যন্ত অপমানজনক।
তিনি আরও বলেন, আবু সাদাত সায়েম স্যার আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন কিভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায়। এর জন্যই একজন উপাচার্যকে তার পদে পুনর্বহাল করার দাবিতে নজিরবিহীন আন্দোলনে নেমেছেন আমাদের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক সমাজও এতে যুক্ত হয়েছেন। আমরা আমাদের ড. আবু সাদাত সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল চাই।
এর আগে সোমবার রাতেও চুয়েটে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে ছাত্রীদের অংশ নিতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসিক হল রাত ৮টার দিকে বন্ধ হয়ে গেলেও উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে রাত ১১টার দিকে হল থেকে বেরিয়ে অনেক ছাত্রী মিছিলে যোগ দেন। পরে তারা অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। রাত ১২টার দিকে মিছিলটি স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর সোমবার রাতে তাকে পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম কবে দায়িত্ব নেবেন, তা জানা যায়নি।
