তেলের দাম শুনে ‘বাইক কেনার ইচ্ছা নাই’ পোস্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
Advertisement
লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘আল্লাহ বাঁচাইছে কিছুদিনের ভিতরে প্ল্যান ছিল নিজের সব থেকে পছন্দের বাইকটা নিব; কিন্তু তেলের দাম শুনে এখন আর ইচ্ছা করতেছে না’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন পোস্ট দিয়ে বহিষ্কার হয়েছেন ভোলার তজুমদ্দিনের এক ছাত্রদল নেতা।
তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়ন (উত্তর) ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈমকে এ কারণে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে তজুমদ্দিন উপজেলা ছাত্রদল।
সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর তজুমদ্দিন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মামুন হোসেন ও সদস্য সচিব শরীফ হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল সম্পাদক নাইমকে বহিষ্কারাদেশ প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নাঈমকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে সদ্য বহিষ্কৃত ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাঈম দাবি করে বলেন, বহিষ্কারের আগে আমাকে কোনো ধরনের নোটিশ বা শোকজ দেওয়া হয়নি। তারা ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র না মেনে এবং কোনো নোটিশ না দিয়ে শুধুমাত্র তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করেই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই পোস্টে তিনি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পথচলায় সংগঠনের বিভিন্ন বিষয় ও কার্যক্রমের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মতের কিছুটা অমিল থাকার কথা উল্লেখ করেন।
একই পোস্টে ব্যক্তিগত সমস্যা ও ব্যস্ততার কারণে সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার কথাও জানান নাঈম।
ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কারের আগে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তজুমদ্দিন উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মো. মামুন হোসেন বলেন, তাকে (বহিষ্কৃত সেক্রেটারি নাইম) মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে এবং সে ৫ আগস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করে আসছিলেন, গতকালও তেলের দাম নিয়ে পোস্ট লিখেন।
গঠনতন্ত্র মেনে উপজেলা ছাত্রদল, ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করতে পারেন কিনা, এমন প্রশ্নে ছাত্রদল আহ্বায়ক বলেন, আমাদের স্বাক্ষরেই ওই ইউনিয়ন কমিটি হয়েছে সেই হিসেবে আমরা বহিষ্কার করতে পারি। তাছাড়া জেলা কমিটির মৌখিক অনুমতি পেয়ে তাকে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
