সেতু নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগে প্রকৌশলীকে বদলি, বরখাস্ত ২
Advertisement
বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট-সাহেবদেরহাট-হাসানহাট-মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিং তৈরিতে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলীকে রাঙামাটিতে বদলি, একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও একজন ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্টকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে এলজিইডি নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৩ সালে প্রায় ৫ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। সেতুটির নির্মাণকাজ পায় ফেনীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডার্স কিন্তু কাজটি বাস্তবায়ন করে নোয়াখালীর সেনবাগের শাহজাহান নামের এক ঠিকাদার।
চলতি মাসের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কয়েক দিন আগে সেতুটির ফুটপাতের স্লাবে রডের পরিবর্তে জিপসি তার ব্যবহার করছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন। তবে এলজিইডি বলছে সেগুলো জিপসি তার ছিল না, সেগুলো হচ্ছে ‘স্ট্র্যান্ড’- যা রডের চেয়েও বেশি দাম। পরবর্তীতে কাজে অনিয়ম সংক্রান্ত কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর সেতুটির নির্মাণকাজ সরেজমিন পরিদর্শন করেন এলজিইডির সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা।
পরিদর্শনে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের, যা নকশা ও স্পেসিফিকেশন-বহির্ভূত বলে প্রমাণ পান তারা। একই সঙ্গে রেলিংয়ের রডের কাজও নিম্নমানের বলে প্রমাণ পায় এবং সেগুলো ভেঙে নতুন করে করার নির্দেশ দেন।
মেসার্স হক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, কাজটি হক ট্রেডার্স পেলেও আমরা করছি না। আমাদের লাইসেন্সে সেনবাগের কয়েকজন মিলে কাজটি করছেন। তাদের মধ্যে একজনের নাম ফরহাদ।
এ বিষয়ে মো. ফরহাদ বলেন, ব্রিজের কাজটি আমরা শুরু থেকে ভালোভাবে করে আসছি। কয়েক দিন আগে আমাদের অজান্তে ব্রিজের ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের কাজে কিছু ত্রুটি ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলজিইডির প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে স্ল্যাব ও রেলিংয়ের যেসব অংশে কাজ ভালো হয়নি তা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে চিঠির মাধ্যমে এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদকে রাঙামাটিতে বদলি, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. মহিন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওই প্রকৌশলীরা নির্মাণকাজ যথাযথভাবে তদারকি করেননি। এটি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলার শামিল এবং সরকারি চাকরিবিধির পরিপন্থি। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে—তা আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডার্সকে দেওয়া চিঠিতে নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নির্মাণকাজের ত্রুটিগুলো সংশোধন করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাতে গত সোমবার নোটিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করাতে এবং নকশা ও স্পেসিফিকেশন-বহির্ভূত কোনো কাজের বিল পরিশোধ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

