কুবিতে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ৭
Advertisement
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পরিচয় না দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটি গড়িয়েছে মারধর, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হলকেন্দ্রিক সংঘর্ষে। জানা গেছে, দফায় দফায় সংঘর্ষে আইসিটি ও ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের অন্তত সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এলাকায় ঘটনার সূত্রপাত। পরে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সামনে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রক্টর অফিসে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে মীমাংসা হওয়ার পরেও ঘটনা গড়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষে।
প্রত্যক্ষদর্শী আবীরের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় লাইব্রেরিতে পড়াশোনাকে কেন্দ্র করে। তারা জানান, আইসিটি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবীর ও তার সহপাঠী ওমর লাইব্রেরিতে বসে পড়ছিলেন। এ সময় পাশে থাকা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল তাদের আস্তে কথা বলতে বলেন। পরে শাকিল তাদের ‘তোরা কোন ব্যাচের?’ বলে প্রশ্ন করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আবীর কোনো উত্তর না দিয়ে ‘সরি’ বলে সেখান থেকে চলে যান।
পরে আবীরের বন্ধু শামীম মজুমদার লাইব্রেরি থেকে বের হলে শাকিলসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
কিন্তু এর পরই পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রক্টরিয়াল বডির মিমাংসা করে দেওয়ার পর আইসিটির ১৯ ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে তাদের উপর লাঠি-সোঁটা নিয়ে হামলা করেন প্রত্নতত্ত্ব ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শাকিল, একই বর্ষের ইংরেজি বিভাগের তাহসিন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের আবীর, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের এহসান, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের রাফসান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের একই ব্যাচের সাকিব, আইন বিভাগের প্রান্ত। এসময় আইসিটি বিভাগের ওই শিক্ষার্থীও মারামারিতে জড়ান।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মূল ফটক থেকে ভুক্তভোগীদের দৌড়ে আইসিটি বিভাগে নিয়ে যান অভিযুক্তরা। এসময় আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হলে প্রক্টরিয়াল বডি আইসিটি বিভাগের গেইটে তালা দেন। শিক্ষার্থীদের উত্তেজনায় প্রক্টরিয়াল বডি গেইট খুলে দিলে হামলাকারীদের ধাওয়া করে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সামনে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নৃবিজ্ঞান বিভাগের জুনাঈদ লামিম, একই বর্ষের মাজহারুল ইসলাম আবির, ইংরেজি বিভাগের কাজী তাহসিন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শাকিল খান, একাউন্টিং ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সৌরভ কাব্য, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের শিহাব, একই বিভাগের শফিউল্লাহ আকাশ এবং ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের মোহাম্মদ তাওহীদ, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তিয়াস, নৃবিজ্ঞান বিভাগের নাজমুল হোসেন এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের মর্তুজা হোসাইন সিদ্দিকসহ দত্ত হলের ও বিজয়-২৪ হলের আরও কিছু শিক্ষার্থী আইসিটি বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হামলাকারীদের ধাওয়া দিলে তারা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে আশ্রয় নেয়। তখন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঘটনাটিতে জড়িয়ে পড়লে আইসিটি প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিততে বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ বিষয়ে শামীম মজুমদার বলেন, ‘আমি শুরুতে সেখানে ছিলাম না। হলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন আমাকে এদিকে আয় বলে। এরপরই আমার ওপর হামলা শুরু করে।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিলের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর বিরোধও পরবর্তী উত্তেজনায় যোগ হয়। এ সময় প্রত্নতত্ত্ব ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে আইসিটি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তাওহীদ, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শামীম মজুমদার, ইফতেখার, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, নিশারুল ও সাইফ এবং ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের শিক্ষার্থী নিবিড় রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের একাংশ দাবি করেছেন, শাকিলকে এর আগে মাদক সেবনের অভিযোগে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘শুরুতেই আমরা দুই পক্ষকে একসঙ্গে করে মিলিয়ে দিয়েছিলাম। পরে আবার কী নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে বলতে পারছি না। আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। আমরা বসে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে জড়িতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।’
