জৈব সারের নামে ভেজাল সার উৎপাদনের অভিযোগ
Advertisement
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
ভেজাল সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে অনেক কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নীলফামারীর সৈয়দপুরে জৈব সারের নামে কেমিক্যাল মিশ্রিত ভেজাল সার উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। শহর ও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের শতাধিক দোকানে এসব সার ও কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি প্রতারিত হচ্ছেন কৃষকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী নিজস্ব গোডাউনে রং মিশ্রিত বালু, লাল মাটি, ছাই ও বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করে জৈব সারের নামে এসব পণ্য তৈরি করছেন। পরে নামে-বেনামে চটকদার মোড়কে তা বাজারজাত করা হচ্ছে।
সরেজমিনে সৈয়দপুর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, কিছু সার ও কীটনাশকের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, ব্যাচ নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ নেই। অনেক প্যাকেটে কোম্পানির পূর্ণাঙ্গ ঠিকানাও পাওয়া যায়নি।
কৃষকদের অভিযোগ, ফসলের মৌসুমে চটকদার মোড়ক ও নানা ধরনের প্রচারণার মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হয়। ভেজাল সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে অনেক কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এসব সার ও কীটনাশক ব্যবহারের পর অনেকের ফসল নষ্ট হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থে অসাধু ব্যবসায়ী ও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সৈয়দপুর শহরের কৃষিবিদ আখতার হোসেন বলেন, প্রকৃত জৈব সার তৈরিতে গোবর, হাড়ের গুঁড়া, ছাই, ডিমের খোসা, চাপাতা, কচুরিপানা ও মুরগির লিটারসহ জৈব উপাদান ব্যবহার করা হয়। এসব উপাদান প্রক্রিয়াজাত করে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের পর তা বাজারজাত করা যায়। কিন্তু সৈয়দপুরে জৈব সারের নামে বালু, মাটি, ছাই ও কেমিক্যাল মিশিয়ে পণ্য তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এসব পণ্য ব্যবহারে কৃষক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ রায় বলেন, ভেজাল সার উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

-6ac0f51163ab1.jpg)