১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৫০০ টাকায় বিক্রি, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক
Advertisement
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হবিগঞ্জের মাধবপুরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রয়োজনের সময় গ্যাস পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে মাধবপুরের বিভিন্ন বাজারে একই সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিন উপজেলার কয়েকটি হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানেই পর্যাপ্ত সিলিন্ডার নেই। কিছু দোকানে সীমিতসংখ্যক সিলিন্ডার থাকলেও আদায় করা হচ্ছে বাড়তি দাম। আবার কয়েকজন ডিলারের কাছে সিলিন্ডার মজুত থাকার পরও গ্রাহকদের ‘সরবরাহ নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এতে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ছুটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
উপজেলার তেলিয়াপাড়ার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, তিন দিন ধরে বাসার গ্যাস শেষ। বাজারে অনেক খুঁজেও সিলিন্ডার পাচ্ছি না। কোথাও পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি দরকার।
শাহেদ মিয়া নামে আরেক গ্রাহক বলেন, আগে বাজারে গেলেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন দোকানে গেলে গ্যাস নেই বলে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া গেলেও দ্বিগুণের কাছাকাছি দাম চাওয়া হচ্ছে।
তবে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা ইচ্ছা করে বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন না; ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
সুরমা বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, কোম্পানি থেকে নিয়মিত সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। ডিলারের কাছ থেকেই প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
অন্যদিকে মনতলার ডিলার জহির মিয়া বলেন, চাহিদামতো আমরা সিলিন্ডার পাচ্ছি না। যে পরিমাণ পাই, তা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির চেষ্টা করি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। বাজার পর্যায়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও নজরদারি বাড়ানো হলে এই কৃত্রিম সংকট এবং অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এলপিজি গ্যাসের সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কেউ অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
