নিষেধাজ্ঞার আগে পাথরঘাটায় ইলিশ বিক্রির ধুম, দামেও বেশি
Advertisement
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
নিষেধাজ্ঞার আগে পাথরঘাটায় ইলিশ বিক্রির ধুম, দামেও বেশি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মা ইলিশ সংরক্ষণ ও নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরুর ঠিক আগের দিন বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশ বিক্রির ধুম পড়েছে। দামও তুলনামূলকভাবে বেশি।
সাগর ও নদ-নদী থেকে ইলিশ মাছবোঝাই করে একের পর এক ট্রলার ঘাটে ফিরছে। ট্রলার থেকে মাছ খালাস, আকারভেদে বাছাই, বরফজাতকরণ ও আড়তে বিক্রির কাজে দিনভর ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে, শ্রমিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সরেজমিন দেখা যায়, ঘাটে নোঙর করা ট্রলারগুলো থেকে মাছ নামানোর পরপরই শুরু হচ্ছে হাঁকডাক ও দরদাম। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই সব মাছ বিক্রি ও সরবরাহ সম্পন্ন করতে পুরো ঘাটেই সৃষ্টি হয়েছে উপচেপড়া কর্মচাঞ্চল্য।
পাশাপাশি অনেক জেলেকে পরবর্তী ২২ দিনের জন্য জাল গুছিয়ে রাখা ও ট্রলার মেরামতের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঘাটে সরবরাহ প্রচুর থাকলেও শেষ মুহূর্তে ইলিশের দাম বেশ চড়া। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী আব্বাস ফয়েজ বলেন, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায়। এছাড়া মাঝারি আকারের ইলিশ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার এবং ছোট আকারের ইলিশ ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকাররা ঘাট থেকে মাছ কিনে বরফ দিয়ে প্যাকেটজাত করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাকে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
দাম চড়া হওয়ার বিষয়ে জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা গোলাম চৌধুরী বলেন, নিষেধাজ্ঞা শুরুর একেবারে শেষ সময়ে ইলিশের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। ক্রেতা-পাইকারদের প্রচণ্ড ভিড় থাকায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে ২২ দিন সাগর ও নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় ইলিশ পরিবহণ, মজুত ও ক্রয়-বিক্রয়ও দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।
এদিকে ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক হোসেন নিষেধাজ্ঞার সময় কর্মহীন হয়ে পড়া প্রকৃত জেলে ও শ্রমিকদের মাঝে দ্রুত ও সঠিকভাবে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান।
একই সঙ্গে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, আইন মেনে তারা মাছ ধরা বন্ধ রাখতে প্রস্তুত, তবে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য সরকারি প্রণোদনা যেন সময়মতো ও স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছায়—এটাই তাদের প্রধান প্রত্যাশা।
