পেটে গজ রেখে সেলাইয়ে প্রসূতির মৃত্যু: চিকিৎসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
Advertisement
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নওগাঁর একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই করে দেওয়ায় প্রসূতি রাহী মুনীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে নওগাঁ সদর ১ নম্বর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ আদেশ দেন।
পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন—অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন (২৯), অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. মো. আখেরুজ্জামান রবি (৩৩), মেট্রো হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মো. রিপন আলী (৩৭), অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মোছা. সালমা বিবি নাজমা (৩২) এবং দালাল চক্রের সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম হিরু (৩৩) ও মো. নাহিদ বাবু (২২)।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল নওগাঁ শহরের দক্ষিণ সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা প্রসূতি রাহী মুনী প্রসববেদনা নিয়ে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে এক দালালের খপ্পরে পড়ে উন্নত চিকিৎসার প্রলোভনে ৮ হাজার টাকার চুক্তিতে শহরের বেসরকারি ‘মেট্রো হাসপাতালে’ নেওয়া হয় তাকে। ওই রাতেই ডা. ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর থেকেই রাহীর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার চালিয়ে তার পেট থেকে গজ কাপড় বের করে পুনরায় সেলাই করে দেয়। এতেও অবস্থার উন্নতি না হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ এপ্রিল রাহী মুনীর মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে নওগাঁর সিভিল সার্জন সরেজমিন তদন্ত করে জানান, ‘মেট্রো হাসপাতাল’ একটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনিবন্ধিত চিকিৎসাকেন্দ্র।
এ সংক্রান্ত খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। গত ১৩ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) ঘটনাটি আমলে নেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে গত ২২ আগস্ট আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই।
বুধবার ধার্য তারিখে পিবিআইয়ের প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত তা আমলে নিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
