বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, আটক ১
Advertisement
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্যের মাথায় রশি দিয়ে জুতার মালা ঝুলিয়ে অবমাননা করার ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। পরে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত সন্দেহে আব্দুর রহমান সম্রাট নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।
আটক সম্রাট ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চননগর গ্রামের মৃত শাহাদাত হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ভ্রাম্যমাণ মুড়ি বিক্রেতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার চার রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যের মাথায় রশি দিয়ে প্যাঁচানো একটি জুতার মালা ঝুলতে দেখেন স্থানীয় পথচারীরা। এ অবমাননাকর দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে জুতার মালাটি নামিয়ে নেয়।
ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান এবং বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর রাতেই সম্রাটকে আটক করা হয়। বুধবার তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কারও প্ররোচনা রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত ১৩ ও ১৪ জুলাই কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর শুরু করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনার মুখে ১৭ জুলাই থেকে ভাঙার কাজ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় জেলা প্রশাসন। তৎকালীন সময়ে ভাস্কর্য অপসারণের পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সভা করা হলেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবর প্রকাশের জেরে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মীকেও হুমকি ও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছিল। ওই সময় বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর ঘটনা ঘটল।
