বিদ্যালয় থেকে ছাত্রীকে নিয়ে যাওয়ার সময় নারী আটক, জনতার হামলায় চার পুলিশ আহত
Advertisement
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফুসলিয়ে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রিয়া আক্তার (২৪) নামে এক নারীকে আটক করে গণধোলাই দিয়েছেন উত্তেজিত জনতা।
পরে অবরুদ্ধ ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার পথে জনতার ইটপাটকেল ও হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করা হয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কটিয়াদী পৌরসভার বেথইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ রানা, কনস্টেবল আতাউর রহমান, কনস্টেবল সারোয়ার হোসেন ও কনস্টেবল আল আমিন। আহত পুলিশ সদস্য, উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী ইলমা আক্তার ও আটক প্রিয়া আক্তারকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আটক প্রিয়া আক্তার পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর উপজেলার দিঘিরপাড় গ্রামের টিপু মিয়ার স্ত্রী। উদ্ধার হওয়া শিশু ইলমা আক্তার বেথইর মহল্লার জামাল মিয়ার মেয়ে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কিশোয়ার সুলতানা জানান, দুপুরের দিকে বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কালো বোরকা পরা এক নারী এসে শিক্ষার্থীদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ইলমাকে ‘তোমার বাবা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন’ বলে ফুসলিয়ে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যান।
বিষয়টি সহপাঠীদের নজরে এলে তারা দৌড়ে গিয়ে শিক্ষক ও দপ্তরিকে জানায়। খবর পেয়ে শিশুটির বাবাসহ স্থানীয়রা খুঁজতে বের হন।
পরে বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পিপুলিয়া এলাকায় একটি অটোরিকশা থেকে শিশু ইলমাকে উদ্ধার এবং ওই নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই নারীকে মারধর করে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে আটকে রাখেন।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী ইলমা আক্তার জানায়, বাবা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে ওই নারী তাকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। অটোরিকশায় তোলার পর তার কানের দুল খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানার এসআই মাসুদ রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ অবরুদ্ধ নারীকে উদ্ধার করে পিকআপে তুলে থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা চালায়। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের গাড়ির সামনের গ্লাস ও বাম্পার ভেঙে যায়।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মিঠুন রানা জানান, আহত চার পুলিশ সদস্য, শিশু শিক্ষার্থী ও আটক নারী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত।
হামলায় আহত এসআই মো. মাসুদ রানা বলেন, খবর পেয়ে অবরুদ্ধ ওই নারীকে উদ্ধার করে আনার সময় উত্তেজিত জনতা ফের মারধরের চেষ্টা করে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমিসহ চারজন পুলিশ সদস্য আহত হই এবং গাড়ির ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
