ছবি দেখে দিন কাটালেও দেড় বছরের মেয়েকে কোলে নেওয়া হলো না মিজানের
Advertisement
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
মিজানুর রহমান
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার যুবক মিজানুর রহমান (৩৪); কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রবাসেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। ফলে দেড় বছরের কন্যাসন্তানের জন্মের পর দূর থেকে ছবি দেখে দিন কাটালেও তাকে নিজ কোলে নেওয়ার আকুল ইচ্ছা আর কখনো পূরণ হবে না এই বাবার।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত মিজানুর রহমান কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের আচমিতা গ্রামের মো. মিলন মিয়ার ছেলে।
অশ্রুসিক্ত চোখে মিজানুর রহমানের বাবা মো. মিলন মিয়া বলেন, পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিদেশে কষ্ট করছিল মিজান। মালয়েশিয়ার উপার্জিত টাকা দিয়েই আমাদের সংসার চলত। ওর দেড় বছরের একটি মেয়ে আছে। মেয়েটির জন্মের পর মিজান আর দেশে আসতে পারেনি। তাই আদরের সন্তানকে দেখতে বা কোলে নিতে পারেনি সে। আমার এতিম নাতনিটার ভাগ্যে কখনো বাবার কোল আর জুটল না!
এ সময় প্রবাসী ছেলের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা প্রার্থনা করেন তিনি।
মালয়েশিয়া থেকে মিজানের সহকর্মী প্রবাসী মোহাম্মদ উজ্জল মিয়া মোবাইল ফোনে জানান, মিজানুর রহমান মালয়েশিয়ার ‘এল অ্যান্ড এল মেটাল স্টেইনলেস স্টিল মিল’ নামে একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার বিকালে কর্মস্থলে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আচমিতা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামসুজ্জামান সোয়েব বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমরা মিজানের মৃত্যুর দুঃসংবাদ পাই। বাড়িতে তার স্ত্রী ও দেড় বছরের একটি অবুঝ শিশুসন্তান রয়েছে। হঠাৎ উপার্জনক্ষম একমাত্র মানুষকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদেরও এ অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
