ইমিগ্রেশনে আটক আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ভৈরব থানার ওসির বিরুদ্ধে
Advertisement
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
ভৈরব থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানা থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এক আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে।
গত ৫ অক্টোবর (সোমবার) দিবাগত রাতে আরিয়ান খুলুদ নামের ওই আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে গত দুই দিন ধরে ভৈরবজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের দাবি, আদালতের জামিন আদেশ (রিকল) থাকায় তাকে ছাড়া হয়েছে। তবে ওসির প্রদর্শিত রিকলে সংশ্লিষ্ট বিচারকের স্বাক্ষর না থাকায় নথিটি আসল নাকি জাল—তা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত আরিয়ান খুলুদের বাড়ি ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকায়; তার বাবার নাম মৃত বশির আহমেদ। তার বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় মামলা রয়েছে। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকায় গত সোমবার (৫ অক্টোবর) পর্তুগাল যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে ভৈরব থানা পুলিশকে খবর দেয়। ওই দিন দুপুরে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শক্তিপদ মৃধা বিমানবন্দর থেকে খুলুদকে হেফাজতে নিয়ে বিকালে ভৈরব থানায় পৌঁছান।
অভিযোগ রয়েছে, থানায় আনার পর একটি প্রভাবশালীমহল ওসি মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করে এবং গভীর রাতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আরিয়ান খুলুদকে ছাড়িয়ে নেয়।
আদালতের জামিন নথিসূত্রে জানা যায়, আরিয়ান খুলুদ গত ৩ মে কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। তবে গত পাঁচ মাসেও সেই রিকল ভৈরব থানায় জমা পড়েনি। সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর নামসংবলিত একটি স্বাক্ষরবিহীন রিকলের ভিত্তিতে তাকে তড়িঘড়ি করে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ওই স্বাক্ষরবিহীন রিকলের অনুলিপি সংগ্রহ করেন।
এ বিষয়ে এসআই শক্তিপদ মৃধা জানান, দুপুরে আরিয়ান খুলুদকে থানায় আনা হয়। তখন রিকল জমা ছিল না। রাতে রিকল জমা দেওয়া হলে ওসি স্যার যাচাই-বাছাই করেন এবং এসপি স্যারের নির্দেশে তাকে ছাড়া হয়। তবে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, পাসপোর্ট ব্লক থাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করেছিল। থানায় আনার পর দেখা যায় তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো ওয়ারেন্ট নেই। আগের মামলায় সে জামিনে ছিল। বিচারকের স্বাক্ষর না থাকার বিষয়টি অনবধানবশত হতে পারে, পরে স্বাক্ষরযুক্ত মূল কপি হাতে পেয়েছি। টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শৈলী বলেন, আদালত থেকে রিকলটি সংগ্রহ করে ফোনে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে, জামিনের আদেশটি সঠিক। আরিয়ান খুলুদের বিরুদ্ধে থাকা ৪টি মামলার সবটিতেই তিনি জামিনে রয়েছেন। তাই আইনগত প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
